‘বিজয় ফুল’ তৈরি প্রতিযোগিতা ও ছুটি বঞ্চনা

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মো. সিদ্দিকুর রহমান

ফাইল ছবি

প্রাথমিক শিক্ষকরা সরকারি কর্মচারী হলেও তারা হলেন ভোকেশনাল বিভাগের কর্মচারী। শিক্ষক ছাড়া বাকি সবাই নন-ভোকেশনাল বিভাগের কর্মচারী।

শিক্ষকরা অর্জিত ছুটি পান অর্ধবেতনে একটি, শ্রান্তি বিনোদনের ১৫ দিনের ছুটি পান না, পিআরএলে অর্ধবেতনে এক বছর বেতন পান।

অর্জিত ছুটি একটি বিধায় চিকিৎসা, হজসহ নানা ছুটি বিনা বেতনে পেয়ে থাকেন। ল্যাম্প গ্র্যান্টের টাকাও অনেক কম পান।

সরকারি কর্মচারীরা নন-ভোকেশনাল কর্মচারী গণ্য হওয়ায় অর্জিত ছুটি দুটি, শ্রান্তি বিনোদনের ছুটি ১৫ দিন, পিআরএলে পূর্ণ বেতন এক বছর, অর্জিত ছুটি দুটি বিধায় চিকিৎসা, হজসহ নানা ছুটি পূর্ণ বেতনে পেয়ে থাকেন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বার্ষিক ছুটি ৭৫ দিন। সরকারি কর্মচারীদের বছরে ৫২ দিন এবং শনিবারসহ সরকারি গেজেটে ২৪-২৫ দিন ছুটি থাকে। তাতে দেখা যায় তাদের ছুটি (৫২+২৪)=৭৬ দিন। সরকারি কর্মচারীরা ৭৫ দিনের চেয়ে বেশি ছুটি ভোগ করে থাকেন।

প্রাথমিক শিক্ষকরা ৭৫ দিনের ছুটির মধ্যে জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে অন্তত ১০ দিন ছুটি ভোগ করতে পারেন না। এ ছাড়া বঙ্গমাতা, বঙ্গবন্ধু ফুটবল প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ নানা কাজে ছুটি থেকে বঞ্চিত হন।

বর্তমানে শিক্ষা উপবৃত্তির কাজ শিক্ষকদের বিশ্রামকে হারাম করে দিয়েছে। এবার শিশু শিক্ষার্থীদের ঈদের পরদিন স্কুলে আসার জন্য ছুটির তালিকায় নির্দেশনা ছিল।

প্রাথমিকের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ঈদের আনন্দ স্কুলে এসে উপভোগ করার এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আমাদের সমাজে কানে কম শুনে ও চোখে কম দেখে এমন লোকের সংখ্যা নগণ্য। প্রাথমিকের সংশ্লিষ্টরা কানে কম শোনার বা চোখে দেখেও না দেখার ভান করে সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষকদের দূরত্ব সৃষ্টি করে চলেছেন।

বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সংশ্লিষ্টদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন। জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবসে বিদ্যালয় খোলা রেখে শিক্ষার্থীদের দিবসের গুরুত্ব বিশদ আলোচনার মাধ্যমে দেশের ইতিহাস-সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে দায়সারা দিবস পালন করা নিছক প্রতারণার শামিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করে চলে আসছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের জানানোর জন্য বিজয় ফুল তৈরির উদ্যোগ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিজয় ফুল তৈরি এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যান্য প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।

কিন্তু প্রতিযোগিতাটি শিক্ষাপ্রাতিষ্ঠানভিত্তিক হওয়ায় এ সময় পূজার ছুটি থাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অনেকেই এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হবে। ১৭ অক্টোবর ছিল বড় পূজা বলে কথিত মহাঅষ্টমী পূজা।

২০ অক্টোবর উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতাও ছুটির মধ্যে, বিজয়া দশমীর পরদিন। হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষকরাও পূজার ছুটি সানন্দে উপভোগ করতে পারবেন না।

ফলে এ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী সরকারের আমলে এমনটি মোটেই কাম্য নয়।

ছুটির মধ্যে স্কুল খোলা রাখাসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নানা কাজে ব্যস্ত রাখা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে বিজয় ফুল তৈরি প্রতিযোগিতার তারিখ পূজার ছুটির পর পুনঃনির্ধারণ করা হবে, এই প্রত্যাশা রইল।

মো. সিদ্দিকুর রহমান : আহ্বায়ক, প্রাথমিক শিক্ষক অধিকার সুরক্ষা ফোরাম

[email protected]