গ্যাস সংযোগে বিলম্ব

শিল্প-বাণিজ্যে ভোগান্তি অগ্রহণযোগ্য

  সম্পাদকীয় ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্যাস সংযোগে বিলম্ব

একদিকে উচ্চমূল্যে কেনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি মাসের পর মাস সাগরে ভাসছে, অন্যদিকে গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় শিল্প-কারখানা চালু করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা, বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনকই বটে।

শিল্পোন্নয়নে যেখানে সব দেশেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সবকিছু করা হয়, সেখানে আমাদের দেশে শিল্পোদ্যোক্তাদের পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

বিশেষত গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিসহ সেবা খাতের বিষয়গুলো নিয়ে উদ্যোক্তাদের হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া দেশে রেওয়াজে পরিণত হয়েছে বলা যায়।

জ্বালানি উপদেষ্টার নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি প্রায় আড়াই হাজার শিল্প-কারখানাকে গ্যাস সংযোগের অনুমোদন দিয়েছে বহু আগে। কিছু কারখানার অনুমোদনের তো দুই বছরের বেশি সময় পার হয়েছে; কিন্তু এখনও তারা গ্যাস সংযোগ তো পায়ইনি, এমনকি কবে নাগাদ পাবে সে নিশ্চয়তাও পাচ্ছে না। এটি যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ নয়, তা বলাই বাহুল্য।

জানা যায়, গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক লাইন না থাকায় কারখানাগুলোতে গ্যাস সংযোগ দেয়া যাচ্ছিল না। ফলে সমস্যা নিরসনে একাধিকবার বিশেষ বৈঠক করে শেষ পর্যন্ত গত মাসের শেষ সপ্তাহে অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলোর নিজস্ব খরচে বিতরণ নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা যাবে মর্মে অনুমোদন দেয়া হয়।

দুঃখের বিষয়, এক মাস পেরিয়ে গেলেও গ্যাস বিতরণ পাইপলাইন নির্মাণসংক্রান্ত বৈঠকের কার্যপত্র এখনও পৌঁছেনি পেট্রোবাংলায়। ফলে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি বুধবার পর্যন্ত জানানো হয়নি।

এ বিলম্বের হেতু হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে একজন সদস্যের স্বাক্ষর না করে বিদেশে চলে যাওয়ার অজুহাত। আমরা মনে করি, শিল্পের গ্যাসলাইনসংক্রান্ত অতিগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে এমন খোঁড়া অজুহাত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে যেতে না পেরে উদ্যোক্তারা যখন ক্ষতির মুখে, তখন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা রিপোর্ট-২০১৮’তে একধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া রিপোর্টটিতে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান সমস্যা দুর্নীতি ছাড়াও সহজে মূলধন না পাওয়া, ঋণের উচ্চ সুদ, মাত্রাতিরিক্ত আয়কর এবং বিভিন্ন বিলের কারণে ব্যবসার সামগ্রিক ব্যয় বাড়ার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। গ্যাস সংযোগের অভাবও যে শিল্প-কারখানার মালিকদের বাড়তি ব্যয়ের একটি কারণ, তা সহজেই বোধগম্য। এ অবস্থায় এলএনজিকে সাগরে ভাসিয়ে না রেখে দ্রুত তা পৌঁছে দিয়ে শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদনে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

জাতীয় নির্বাচনের বছরে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ নিয়ে টালবাহানা কোনো ধরনের দুরভিসন্ধি কিনা, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। বর্তমানে আমাদের অর্থনীতি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এ সময়ে কোনো পক্ষের অবহেলায় অর্থনীতি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের কাতারে প্রবেশের পথে থাকায় বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও বিদেশি বিনিয়োগ টানতে গ্যাস সংকট দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। অর্থনীতির সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে অবিলম্বে কারাখানগুলোতে এলএনজি পৌঁছে দেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter