শিল্প ঋণের সুদহার: সিঙ্গেল ডিজিট কি স্বপ্নই থেকে যাবে?

  যুগান্তর ডেস্ক    ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্প ঋণের সুদহার: সিঙ্গেল ডিজিট কি স্বপ্নই থেকে যাবে?
বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

ব্যাংকগুলোকে নানা সুবিধা দেয়ার বিপরীতে ঋণের সুদহার ১ জুলাই থেকে সিঙ্গেল ডিজিট তথা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা ছিল; কিন্তু অর্থবছরের চার মাস পার হয়ে গেলেও হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক আদেশটি কিছুটা তামিল করেছে জোড়াতালি দিয়ে।

এ তালিকায় আছে সরকারি সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী, বেসিক, বাংলাদেশ কৃষি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং বেসরকারি ঢাকা ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানও কেবল শিল্প খাতের মেয়াদি ও চলতি মূলধনের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, সব ধরনের সুদহার নয়।

অন্য ব্যাংকগুলো প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন তো করেইনি, উল্টো নানা টালবাহানা করছে এবং ব্যাংকভেদে সাড়ে ১১ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত শিল্প ঋণে সুদ আদায় করছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ প্রতিপালন ও খোদ ব্যাংক মালিকদের দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কি স্বপ্নই থেকে যাবে- এমন প্রশ্ন উঠছে।

সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণার বাস্তবায়ন এড়াতে বেশিরভাগ ব্যাংকই এখনও নানা কৌশল এবং শুভংকরের ফাঁকির আশ্রয় নিচ্ছে। ‘কম সুদে সরকারি আমানতের অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না, বেসরকারি আমানতও মিলছে না, সময় লাগবে’- এসব কথা বলে গড়িমসি করা হচ্ছে। অথচ জনগণকে তাদের আমানতের বিপরীতে সুদ ঠিকই কম দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় শিল্পের স্বার্থে ইতিবাচক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বাড়ানো, সর্বোপরি দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে আমরা মনে করি।

কয়েকটি ব্যাংক যে ঋণের সুদহার কমিয়েছে, তাতে কিছুটা শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক রুটিন কাজ হিসেবে তারা এমনটি করেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর বাধ্যবাধকতা হিসেবে নয়। এ ক্ষেত্রে কৃষিঋণ, রফতানি ঋণ, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের সুদহার সমন্বয় করে নিজেদের সুদহার কম দেখানোর একটি চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ সিঙ্গেল ডিজিট ঋণ দিলে ব্যাংকগুলোর যেন সমস্যা না হয় সে জন্য সিআরআর বা নগদ ক্যাশ জমা ১ শতাংশ কমানো, বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রাখার মতো বড় সুবিধা তো দেয়া হয়েছেই, এমনকি ব্যাংক মালিকদের দাবি মোতাবেক পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালক সংক্রান্ত অনেক সুবিধাও দেয়া হয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতিসহ ব্যাংকাররা এখন বলছেন, সরকারের লক্ষ্যপূরণে মেয়াদি ও চলতি মূলধন ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারি ব্যাংকগুলো ৬ শতাংশ হারে আমানত দিলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমা ও পর্যাপ্ত আমানত পাওয়াসাপেক্ষে সেটি করা হবে। এটি যে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো সময়ক্ষেপণ বৈ কিছু নয়, তা সহজেই অনুমেয়।

সদিচ্ছা থাকলে এভাবে গড়িমসি না করে ব্যাংকগুলো সরকারের দেয়া সুবিধার বিপরীতে অপারেটিং কস্ট কমিয়ে এবং নানাভাবে উদ্যোগ নিতে পারে। আমাদের আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের উচ্চমহল কঠোর অবস্থান না নিলে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার স্বপ্নই থেকে যাবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter