সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর প্রশিক্ষণ না আনন্দ ভ্রমণ?

  যুগান্তর ডেস্ক    ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর
ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকৃত। মূলত পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এ সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরকারি এ সুযোগটির অপব্যবহার হচ্ছে হরহামেশাই।

প্রশিক্ষণার্থে যারা বিদেশে যাচ্ছেন, তাদের সিংহভাগই যাচ্ছেন মূলত দেশ ভ্রমণ অথবা বিনোদনের উদ্দেশ্যে। তাদের পেশাগত দয়িত্বের সঙ্গে উদ্দিষ্ট প্রশিক্ষণের কোনো মিলই থাকে না, তবু তারা সরকারি খরচেই প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ ভ্রমণ করেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বেলারুশ সফর করেছেন ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট দেখতে। হিসাবরক্ষণের সঙ্গে ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টের কী সম্পর্ক বোঝা দায়। আবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সিস্টেম অ্যানালিস্ট চীন সফর করেছেন এলইডি প্রস্তুতকারক ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে। এখানেও পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে তার বিদেশ সফরের কোনো সাযুজ্য খুঁজে পাওয়া যায় না।

সফরের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, নন-টেকনিক্যাল ব্যক্তি টেকনিক্যাল বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, প্রশিক্ষণ শেষে সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।

শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নয়, খোঁজ নিলে জানা যাবে সরকারি সব দফতরেই প্রশিক্ষণের নামে এক্সকারশন বা বিনোদন ভ্রমণের হিড়িক পড়ে যায়। বাছ-বিচারহীনভাবে এ ধরনের আয়োজন যে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ সফর করছেন যিনি, তিনি প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে বিষয়টির ওপর নবলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন- এটাই স্বাভাবিক চাওয়া। কিন্তু যিনি বিদেশ সফর করেছেন শুধুই প্লেজার ট্রিপ হিসেবে অথবা দায়িত্ববহির্র্ভূত ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তিনি কীভাবে পূরণ করবেন এই চাওয়া? বন্ধ হওয়া উচিত প্রশিক্ষণের নামে এ ধরনের প্লেজার ট্রিপ অথবা অর্থহীন বিদেশ সফর।

বস্তুত সরকারি দফতরগুলোয় প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ সফরের একটি সুযোগ তৈরি করে রাখা হয়েছে এবং বিনা প্রয়োজনেও সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন তারা। এটা এক ধরনের রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। এ বছর অমুক যাবেন, তো পরের বছর তমুক- ব্যাপারটা দাঁড়িয়েছে এমনই। প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ সফরের তাই একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দরকার, যে নীতিমালা সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করতে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter