নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশা

আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সম্প্রতি দেশব্যাপী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দুর্ঘটনা রোধে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরও সড়কে একের পর এক তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। বস্তুত সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত। এখন দরকার দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণে অভ্যস্ত হওয়া।

দেশে লাইসেন্সধারী চালক সংকটের বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ প্রেক্ষাপটে চালক তৈরির জন্য বড় ধরনের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। অদক্ষ চালক যাতে গাড়ি চালানোর সুযোগ না পায়, এটি নিশ্চিত করতে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কেউ দুর্নীতি করেন কিনা তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা দরকার। সড়কে বিদ্যমান ত্র“টি দূর করা না হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিষয়টি বহুল আলোচিত। কোনো চালক নিয়ম অমান্য করলে অতি দ্রুত যাতে সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও চালককে চিহ্নিত করা যায় সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার। এসব ক্ষেত্রে কঠোর নীতি অবলম্বন করা না হলে নিয়ম না-মানার প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকবে। এতে অনিবার্যভাবেই বাড়বে দুর্ঘটনা।

সম্প্রতি রাজধানীতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে লক্ষ করা গেছে, চালক হিসেবে যাদের ন্যূনতম জ্ঞান নেই তারাও চালকের আসনে বসে গেছেন দিব্যি। বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর আমরা জানতে পারি, চালকের দক্ষতার অভাব ছিল। প্রশ্ন হল, এসব যাচাই করার কথা যাদের, তারা কী করছেন? যদি দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগেই চালকের অদক্ষতার বিষয়টি চিহ্নিত করা না যায়, তাহলে সড়কে একের পর এক তাজা প্রাণ ঝরতেই থাকবে।

দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে কোনো চালক উদাসীনতা প্রদর্শন করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সারা দেশে ফিটনেসবিহীন কোনো গাড়ি যাতে চলাচল করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। মহাসড়কে নিষিদ্ধ যান যাতে চলাচল করতে না পারে, এটাও নিশ্চিত করা জরুরি। বাসে বাসে রেষারেষি ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং বন্ধ না হলে সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ হবে না।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন বিল ২০১৮ পাসের পর পরিবহন খাতের কিছু ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন স্থানে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এ কাজে যারা যুক্ত ছিল এবং যারা এদের পৃষ্ঠপোষক, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা দরকার।

পরিবহন খাতের সব কর্মীর জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা না হলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনার বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। এ খাতের কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমিয়ে আনা সহজ হবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×