রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত

নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয় ০১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরুর সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত বছরের শেষদিকে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে।

চুক্তির তারিখ থেকে দুই বছর সময়সীমার মধ্যে অন্তত ৭ লাখ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্য ঠিক করা হলেও মাত্র ৮ হাজারের প্রথম তালিকা যাচাই-বাছাই করতেই মিয়ানমার সরকার প্রায় ৯ মাস সময় নিয়েছে। অথচ বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা কমপক্ষে ১১ লাখ। তবে চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, আপাতত শুধু তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রত্যাবাসন একটি জটিল প্রক্রিয়া, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে মিয়ানমার সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যাবাসনের সুযোগ নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে মিয়ানমার সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সুশাসন ও আইনি পদক্ষেপ। এজন্য এরই মধ্যে পাবলিক পলিসিতে বড় পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে বৈঠকে জানানো হয়- উত্তর রাখাইন রাজ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য যেন না হয়, সেজন্য স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মিয়ানমারের দুই সদস্য কক্সবাজার গিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি রোহিঙ্গাদের কাছে তুলে ধরবেন, যাতে তারা নিশ্চিন্তে দেশে ফিরতে পারে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সর্বোপরি বাংলাদেশও এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বস্তুত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া পর সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে। এটি সহজেই বোধগম্য যে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পেলে বিপদ মাথায় নিয়ে রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরে যেতে চাইবে না। ফিরে গেলেও পুনরায় তারা নিগৃহীত হলে এবং তাদের ওপর হামলা হলে তারা আবারও এ দেশে পালিয়ে আসবে। কাজেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পাশাপাশি সেদেশে তাদের নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×