কলড্রপ থেকে রেহাই চাই
jugantor
কলড্রপ থেকে রেহাই চাই

  নুরুল আমিন  

১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কলড্রপ থেকে রেহাই চাই

মোবাইল ফোনে কলড্রপের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এর যেন কোনো প্রতিকার নেই। মোবাইল ফোনের অপ্রত্যাশিত কলড্রপের কারণে দেশের লাখ লাখ ব্যবহারকারী প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা অনাকাক্সিক্ষত কলড্রপকে অপারেটরদের নিছক বাণিজ্য বলে মনে করছেন।

কলড্রপের মধ্য দিয়ে প্রতারণা করে অসাধু অপারেটররা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এমনটাই ধারণা করেন অধিকাংশ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী। দিন দিন এ কলড্রপের প্রবণতা যেন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর লাগাম টেনে ধরার কি কেউ নেই?

এমনটাই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। মোবাইল ফোনে কলড্রপ চলতে থাকবে আর তা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে না- এটি কখনও কাম্য হতে পারে না। এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় হঠাৎ করে লাইন কেটে যাওয়া- এটা যেমন বিরক্তিকর, তেমনি যন্ত্রণাদায়কও বটে। কলড্রপের কারণে অনেকেই বিপাকে পড়েন। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিরও অবতারণা হয়।

যেমন ধরা যাক, একজন সাধারণ ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক নেতা, অফিসের বস কিংবা পদস্থ কোনো কর্তাব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ করেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। এর ফলে কথা শেষ না হতেই ফোন কেটে দেয়ার অভিযোগে ওই সাধারণ লোকটিকে অনেক সময় অপদস্থ হতে হয়, যা অতি দুঃখজনক।

কলড্রপ নামক টেলিব্যাধি ইদানীং খুব বেশি বেড়ে গেছে। এর কারণ কী? কোনো কাস্টমার কেয়ারে কারণ জানতে চাইলে বলে দেয়া হয়, ব্যবহৃত মোবাইল সেটে সমস্যা আছে কিনা তা দেখে নিন। অথবা রিচার্জের মেয়াদ দেখতে বলা হয়। অর্থাৎ দোষ সবসময় চাপিয়ে দেয়া হয় গ্রাহকদের ঘাড়ে।

কলড্রপের কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যায়- সেবা বা পরিষেবা আরও উন্নত করার পরিকল্পনার অভাব, টেলিকম অপারেটিং সিস্টেমে অব্যবস্থাপনা, অপারেটরদের দক্ষতার অভাব, প্রযুক্তি ব্যবহার কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটি, নেটওয়ার্ক দুর্বল কিংবা ওভারলোড হওয়া অথবা নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যাও থাকা।

কী কারণে নেটওয়ার্ক ঘন ঘন ডাউন-আপডাউন হয় তা সঠিকভাবে নির্ণয় না করাও এর একটি কারণ হতে পারে। টাওয়ার বেশি দূরে হওয়ায় কিংবা ত্রুটিপূর্ণ স্থাপনের কারণেও কলড্রপ হতে পারে। প্রয়োজনীয় স্পেকট্রামের অভাব থাকতে পারে।

তবে কারণ যাই হোক না কেন, এ অবস্থা বেশি দিন চলতে দেয়া যায় না। এর সমাধান হওয়া উচিত। আমরা চাই কলড্রপ থেকে মুক্তি। টেলিকম কোম্পানিগুলো গ্রাহকের সুবিধার দিক বিবেচনায় এনে নিজ নিজ সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কলড্রপ বন্ধে পদক্ষেপ নেবে এটাই কাম্য। জনস্বার্থে সরকার কলড্রপ বন্ধ করার উদ্যোগ নেবে বলে আশা করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকার কঠোর পদক্ষেপ না নিলে কলড্রপ থেকে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের মুক্তি মিলবে না বলেই মনে হয়।

নুরুল আমিন : প্রাবন্ধিক, লালমোহন, ভোলা

[email protected]

কলড্রপ থেকে রেহাই চাই

 নুরুল আমিন 
১১ নভেম্বর ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
কলড্রপ থেকে রেহাই চাই
প্রতীকী ছবি

মোবাইল ফোনে কলড্রপের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এর যেন কোনো প্রতিকার নেই। মোবাইল ফোনের অপ্রত্যাশিত কলড্রপের কারণে দেশের লাখ লাখ ব্যবহারকারী প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা অনাকাক্সিক্ষত কলড্রপকে অপারেটরদের নিছক বাণিজ্য বলে মনে করছেন।

কলড্রপের মধ্য দিয়ে প্রতারণা করে অসাধু অপারেটররা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এমনটাই ধারণা করেন অধিকাংশ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী। দিন দিন এ কলড্রপের প্রবণতা যেন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর লাগাম টেনে ধরার কি কেউ নেই?

এমনটাই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। মোবাইল ফোনে কলড্রপ চলতে থাকবে আর তা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে না- এটি কখনও কাম্য হতে পারে না। এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় হঠাৎ করে লাইন কেটে যাওয়া- এটা যেমন বিরক্তিকর, তেমনি যন্ত্রণাদায়কও বটে। কলড্রপের কারণে অনেকেই বিপাকে পড়েন। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিরও অবতারণা হয়।

যেমন ধরা যাক, একজন সাধারণ ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক নেতা, অফিসের বস কিংবা পদস্থ কোনো কর্তাব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ করেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। এর ফলে কথা শেষ না হতেই ফোন কেটে দেয়ার অভিযোগে ওই সাধারণ লোকটিকে অনেক সময় অপদস্থ হতে হয়, যা অতি দুঃখজনক।

কলড্রপ নামক টেলিব্যাধি ইদানীং খুব বেশি বেড়ে গেছে। এর কারণ কী? কোনো কাস্টমার কেয়ারে কারণ জানতে চাইলে বলে দেয়া হয়, ব্যবহৃত মোবাইল সেটে সমস্যা আছে কিনা তা দেখে নিন। অথবা রিচার্জের মেয়াদ দেখতে বলা হয়। অর্থাৎ দোষ সবসময় চাপিয়ে দেয়া হয় গ্রাহকদের ঘাড়ে।

কলড্রপের কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যায়- সেবা বা পরিষেবা আরও উন্নত করার পরিকল্পনার অভাব, টেলিকম অপারেটিং সিস্টেমে অব্যবস্থাপনা, অপারেটরদের দক্ষতার অভাব, প্রযুক্তি ব্যবহার কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটি, নেটওয়ার্ক দুর্বল কিংবা ওভারলোড হওয়া অথবা নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যাও থাকা।

কী কারণে নেটওয়ার্ক ঘন ঘন ডাউন-আপডাউন হয় তা সঠিকভাবে নির্ণয় না করাও এর একটি কারণ হতে পারে। টাওয়ার বেশি দূরে হওয়ায় কিংবা ত্রুটিপূর্ণ স্থাপনের কারণেও কলড্রপ হতে পারে। প্রয়োজনীয় স্পেকট্রামের অভাব থাকতে পারে।

তবে কারণ যাই হোক না কেন, এ অবস্থা বেশি দিন চলতে দেয়া যায় না। এর সমাধান হওয়া উচিত। আমরা চাই কলড্রপ থেকে মুক্তি। টেলিকম কোম্পানিগুলো গ্রাহকের সুবিধার দিক বিবেচনায় এনে নিজ নিজ সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কলড্রপ বন্ধে পদক্ষেপ নেবে এটাই কাম্য। জনস্বার্থে সরকার কলড্রপ বন্ধ করার উদ্যোগ নেবে বলে আশা করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকার কঠোর পদক্ষেপ না নিলে কলড্রপ থেকে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের মুক্তি মিলবে না বলেই মনে হয়।

নুরুল আমিন : প্রাবন্ধিক, লালমোহন, ভোলা

[email protected]