রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

উদ্যোগটি ফলপ্রসূ হতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ১৫ নভেম্বর দিনক্ষণ ঠিক করেছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে ইতিমধ্যে যেসব চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, সেসব চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের আন্তরিকতা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে দেশটি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে কিনা তা নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যেও এক ধরনের সন্দেহ বিরাজ করছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম ফলপ্রসূ করার জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। সবার প্রত্যাশা, ১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম যথাযথভাবে শুরু হবে এবং মিয়ানমার পর্যায়ক্রমে সব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে।

উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয়রাও রোহিঙ্গা ভারমুক্ত হওয়ার বিষয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম আজাদ মন্তব্য করেছেন- ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে প্রত্যাবাসনবিরোধী কয়েকটি চক্র অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কাজেই দু’দেশের সংশ্লিষ্ট সবাই বিশেষভাবে সতর্ক না থাকলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের শুরুতেই যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যার সূত্র ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি সংশ্লিষ্ট সবার কাছেই স্পষ্ট। চুক্তি বাস্তবায়নে দেশটির সেনাবাহিনী কী ভূমিকা পালন করে এটিও এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে গিয়ে কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বে কিনা এ আশঙ্কায় তারা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। তারা স্বদেশে ফিরে গিয়ে যাতে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এটা নিশ্চিত করা জরুরি। মিয়ানমার সরকার এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেবে এটাই সবার প্রত্যাশা।

বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। যেহেতু মিয়ানমার বারবার প্রতিশ্র“তি দিয়েও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়নি, তাই এবার যাতে নামমাত্র কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা ফেরত নিয়ে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বন্ধ করে না দেয়, এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

এটি সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দায়িত্বও বটে। যে অবস্থার প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদেরকে আশ্বস্ত করতে হবে নতুন করে তারা সে ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে না। বাংলাদেশকেও এ ব্যাপারে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×