প্রতিবন্ধীদের অধিকার

আইন ও নীতিমালার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয় ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিবন্ধীদের অধিকার

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল হলেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা দেশের প্রতিবন্ধীসহ সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে, সন্দেহ নেই। এ নীতিমালা যত দ্রুত প্রণীত ও বাস্তবায়িত হয় ততই মঙ্গল।

প্রতিবন্ধীরা এ সমাজে সবচেয়ে অনগ্রসর ও অবহেলিত জনগোষ্ঠী। সমাজের অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণমূলক প্রতিনিধিত্ব নেই। রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের অংশগ্রহণ এখনও পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত হয়নি।

প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সুবিধার জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থা, স্থাপনা নির্মাণে বিল্ডিং কোড প্রণয়নের কাজও হয়নি। তাই বলা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

আমাদের সংবিধানের ১৫, ১৭, ২০ ও ২৯ অনুচ্ছেদে অন্যান্য নাগরিকের সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমসুযোগ ও অধিকার প্রদান করা হয়েছে। সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ প্রণয়ন করেছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিধিমালা-২০১৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া রয়েছে প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন-২০০১। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচিও প্রবর্তন করা হয়েছে।

এসবের যথাযথ বাস্তবায়ন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যাতায়াত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ সৃষ্টিতে এবং তাদেরকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনেকের মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রতিভা। সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন এবং পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারলে তারা সমাজে ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।

সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বটে; তবে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় এ জনগোষ্ঠী সেভাবে অগ্রসর হতে পারছে না। বিশেষ করে শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে তারা। দেশে প্রতিব›দ্ধীদের জন্য আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সরকার যে স্কুলগুলো চালু করেছে, সেগুলোর মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। বিদ্যমান সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করে তোলা গেলে এসব প্রতিষ্ঠানেও তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সচেতনতার অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হন না।

প্রতিবন্ধীদের অনগ্রসরতার এটিও একটি কারণ। এ ক্ষেত্রে সরকার অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির আওতা আরও বাড়াতে পারে। সেই সঙ্গে প্রতিবন্ধী সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়াটাও জরুরি।

তাদের বুঝতে হবে, কোনো শিক্ষিত মানুষই দেশের জন্য বোঝা নয়, বরং সম্পদ। কাজেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেবল ভাতাভোগী করে রাখলে চলবে না, তাদের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধীরাও অবদান রাখতে পারে।

যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদেরও দেশের সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এ সত্য রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকসহ সবাইকেই অনুধাবন করতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×