এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হোক

  সম্পাদকীয় ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

চট্টগ্রামে দেশের সর্ববৃহৎ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

টেন্ডারে অংশ নেয়া একাধিক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে সংশোধিত টেন্ডারে শর্ত শিথিল করা হয়েছে।

এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, সেহেতু কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) এ বছরের জুলাই মাসে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজের যে দরপত্র আহ্বান করেছিল তাতে বলা হয়, যৌথভাবে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিতে পারবে।

যৌথভাবে দরপত্রে অংশ নিলে ৩০ কোটি টাকা করে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৬০ কোটি টাকা নিরাপত্তা জামানত দিতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের সর্বনিু আট কিলোমিটার (চার লেন বিশিষ্ট) ফ্লাইওভার বা উড়াল সড়ক নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং শেষ দশ বছরে কমপক্ষে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে উপযুক্ত বিবেচনা করা হবে।

প্রথম টেন্ডারের বেশকিছু শর্ত সংশোধিত টেন্ডারে শিথিল করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

দেশি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সের সঙ্গে কাজ পাওয়া চীনা প্রতিষ্ঠান র‌্যানকিন (জেভি) ৩০ কোটি টাকার নিরাপত্তা জামানত দিতে না পারায় র‌্যানকিনের পক্ষে ৩০ কোটি টাকার নিরাপত্তা জামানত পরিশোধ করে ম্যাক্স।

একসঙ্গে আট কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণের অভিজ্ঞতা এবং শেষ দশ বছরে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার কাজ করার অভিজ্ঞতা কাজ পাওয়া দুই প্রতিষ্ঠানের নেই। জানা যায়, র‌্যানকিন চীনের দ্বিতীয় সারির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সে হিসেবে ওই দেশের আইন অনুযায়ী তাদের এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বেশি উড়াল সড়ক নির্মাণ করার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের যৌথ টেন্ডারে র‌্যানকিনের মতো প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা কতটা যৌক্তিক, এটি একটি প্রশ্ন।

আর্থিকভাবে অক্ষম ও অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান র‌্যানকিন এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কতটা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। উল্লিখিত প্রকল্প পরিচালকের দাবি, সর্বনিু দরদাতা হিসেবে ম্যাক্স-র‌্যানকিনকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

প্রকল্পের কাজ এখনও পুরোদমে শুরু হয়নি। উল্লিখিত প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াটি পুনঃতদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার। গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা প্রকল্পের টেন্ডার চূড়ান্ত করার আগে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সক্ষমতা ভালোভাবে যাচাই করে দেখা জরুরি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×