বিশ্ব মাটি দিবস

খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি

  আমিনুল ইসলাম হুসাইনী ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব মাটি দিবস

৫ ডিসেম্বর বিশ্ব মাটি দিবস (ওয়ার্ল্ড সয়েল ডে)। দিবসটির কথা ক’জনেই বা জানেন?

মাটি বা মৃত্তিকা হল পৃথিবীর উপরি ভাগের নরম ও দানাদার আবরণ। এর ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে আকাশছোঁয়া পাহাড়, বিস্তৃত সবুজের বাগান।

তারই বুক চিড়ে বয়ে যায় পানির ছলাৎ ছলাৎ স্রোতধারা। হেঁটে যায় মানুষ। আরও কত শত প্রাণী। রেখে যায় তাদের পদছাপ। কারণ তারা এই মাটিরই সন্তান। মাটির ওপরই আমাদের জীবনযাপন। বেলা শেষে আবার এই মাটির কোলেই মিলবে অনন্তকালের আশ্রয়।

পৃথিবীর অতি পবিত্র একটি বস্তু মাটি। এই মাটি দিয়েই তৈরি করা হয়েছে স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব মানুষকে।

ইসলাম ধর্মমতে মানবজাতির প্রথম পুরুষ হজরত আদমকে (আ.) মাটি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়। সেই সূত্রে সব মানুষই মাটির তৈরি। মাটি আমাদের মায়ের মতো।

এই যে এত এত কোদালের কোপ, লাঙলের ঘা, শাবলের গুঁতোয় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে মাটির দেহাঙ্গ, কোনোদিন এর কি কোনো প্রতিবাদ করেছে মাটি? মাটি টুঁ শব্দটিও করে না। বরং আমাদের সব আঘাত নীরবে সহ্য করে যায়।

আর মায়ের মতো মুখে তুলে দেয় নানা খাবার। তাই কোনো এক কবি বলে গেছেন- ‘যার বুকে তুই জন্ম নিলি, তারে চিনলি না। মাটির মঙ্গল করো রে ভাই মাটি যে তোর মা।’

অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, পথ্য, শিক্ষা সরঞ্জাম, পানি, বিদ্যুৎ, যানবাহনসহ মানুষের প্রয়োজনীয় উপাদান- কী না দিচ্ছে মাটি? নিঃস্বার্থভাবে সবকিছুরই জোগান দিয়ে যাচ্ছে এই উদার ভূমি। আর আমরা সেই মাটিকে দূষিত করে চলেছি বিভিন্নভাবে।

আমাদের কল-কারখানার বর্জ্য, বালাইনাশক, আগাছানাশক, হাসপাতালের বর্জ্য, ইটভাটার ছাইসহ নানা বর্জ্য মাটির বুকে ঢালছি।

একটুও কি ভেবেছি এতে মাটির কতটা কষ্ট হতে পারে! মাটি বিজ্ঞানীরা বলেন, গত কয়েক দশকে মাটি ক্ষয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে তিনগুণে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে দূষিতও হচ্ছে আমাদের এই বৃহৎ প্রাকৃতিক সম্পদ।

তাই জাতিসংঘের ৬৮তম সাধারণ সভায় ২০১৫ সালকে ‘আন্তর্জাতিক মৃত্তিকা বর্ষ’ ঘোষণা করে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন বলেছিলেন, ‘স্বাস্থ্যবান মাটি ছাড়া এ পৃথিবীতে মানবজীবন টেকসই হবে না।’

তাই মাটির স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা প্রত্যেক মানুষেরই কর্তব্য। কারণ দূষিত মাটি দ্বারা মানুষেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ নানাভাবে দূষিত মাটির সংস্পর্শে আসার কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।

উল্লেখযোগ্য রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের সমস্যা, ম্যালেরিয়া, কলেরা, আমাশয়, চর্ম ও পাকস্থলীর সংক্রমণ।

আসুন, মাটিকে মায়ের মতো ভালোবাসি। মাটি দূষণের প্রতিবাদ করি। প্রতিরোধ করি। পাশাপাশি মাটির উৎপাদিকা শক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করি।

মাটির পাশাপাশি আরও যত প্রাকৃতিক সম্পদ আছে- সবকিছুর যথাযথ ব্যবহার, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করি। নতুবা পরিবেশ ভারসাম্য হারিয়ে ঘটাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। বিলুপ্ত হবে মানবসভ্যতার।

আমিনুল ইসলাম হুসাইনী : সম্পাদক, ষান্মাসিক চন্দ্রবিন্দু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×