ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডই মোদ্দা কথা

  সম্পাদকীয় ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে ‘শান্তিতে বিজয়’ পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা তাদের বক্তব্য দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম নির্বাচনী পরিবেশে কিছু সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করে তা ঐক্যবদ্ধভাবে দূর করতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

অন্যদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে আরও কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন নির্বাচন কমিশন ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে পারছে না।

দেখা যাচ্ছে, ‘শান্তিতে বিজয়’ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের বক্তারা মনে করছেন না দেশে নির্বাচনী পরিবেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূলে রয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টাও নির্বাচনী পরিবেশে কিছু সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

বস্তুত সমগ্র জাতিই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন দেখতে চায় না। একটি অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু গণতন্ত্রের জন্যই জরুরি নয়, অর্থনীতি থেকে শুরু করে দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তা সম্পর্কিত।

অতঃপর নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার মাধ্যমে জাতির সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাক্সক্ষা পূরণ করা। আমরা দীর্ঘদিন থেকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলে আসছিলাম।

সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। এখন বাকি থাকল শুধু নির্বাচনটিকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা। এ গুরুদায়িত্ব পালনের ভার প্রধানত নির্বাচন কমিশনের।

এ প্রতিষ্ঠানকে মনে রাখতে হবে নির্বাচন মানে জনগণকে তাদের শাসক নির্বাচনের অধিকার দেয়া। ফলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এমন এক শৃঙ্খলা বজায় থাকতে হবে, যেন সমাজে সব ধরনের সন্ত্রাস, ভয়-ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের মতো ঘটনা দানা বাঁধতে না পারে।

এ ব্যাপারে অবশ্য সরকারের দায়িত্বও অনেক। দেশে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাখার ক্ষেত্রে সরকার নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে- এটাই জাতির প্রত্যাশা। কয়েকদিন আগে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক আলোচনায় মিলিত হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পুলিশ বাহিনীকে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা মনে করি সেসব নির্দেশনা পুলিশ সদস্যদের অক্ষরে অক্ষরে পালন করা উচিত।

বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নির্বাচনের প্রার্থীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এটা অস্বীকার করা যাবে না, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা, তা নিয়ে জনমনে এক ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনটি যেহেতু একটি দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাই এ ধরনের আশঙ্কা বা সন্দেহ অমূলক নয়। নির্বাচন কমিশনকে সর্বশক্তি দিয়ে জনমনের এই আশঙ্কা দূর করতে হবে।

সবশেষ যে কথা তা হল, নির্বাচনের মাঠে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন প্রধান নিয়ামক। তারা জাতিকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার ব্যাপারে দায়বদ্ধও বটে। ফলে এই কমিশনের কোনো সিদ্ধান্ত বা আচরণ একতরফা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতিমধ্যেই কমিশন বিশেষত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাছে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। এই বিতর্কের অবসান ঘটানোর দায়িত্ব কমিশনেরই। ইতিপূর্বে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। সামনের দিনগুলোয় নির্বাচন কমিশন শতভাগ নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সুস্থ ও স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করবে- জাতি এটাই দেখতে চায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×