ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হোক

  মুন্নাফ হোসেন ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:১০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হোক। ছবি: যুগান্তর
ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হোক। ছবি: যুগান্তর

শিক্ষার মূল সোপান হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। যদিও লেখাপড়ার হাতেখড়ি পরিবারে, তবুও প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে এর মূল ভিত্তি। শিকড় হতে শিখরে উঠতে হলে প্রথমে শিকড়কে মজবুত করতে হবে।

শিকড় যদি ভালোভাবে বিস্তার লাভ করে, তবেই শিখরে ওঠা যায়। প্রাথমিক শিক্ষাকে সরকার যুগোপযোগী করার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক বৈষম্য রয়ে গেছে। বৈষম্যের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিটি পরীক্ষা নেয়া হয় সৃজনশীল পদ্ধতিতে। অথচ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সব শিক্ষককে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে না। মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন, যার ফলে ছাত্রছাত্রীরা সৃজনশীল বিষয়ে সঠিক জ্ঞান পাচ্ছে না।

চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীতে ডব্লিউএইচ প্রশ্ন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে ভীতি সৃষ্টি করছে। কারণ এ বিষয়টি স্নাতক পর্যায়ের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত। যদি নিয়মিত ইংরেজি বিষয়ে সবাইকে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো তাহলে সমস্যা হতো না।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য শিক্ষকদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করছে। উন্নত বিশ্বে শিক্ষকদের উচ্চ বেতন ও ভিআইপি মর্যাদা দেয়া হয়, অথচ আমাদের দেশে সম্মানিত শিক্ষকদের এখনও সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না।

সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দেয়া হয়েছে, অথচ এখনও গেজেট প্রকাশিত হয়নি। প্রধান শিক্ষকদের প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেয়া জরুরি। কারণ প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় একজন প্রধান শিক্ষককে অনেক কষ্ট করতে হয়।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন প্রধান শিক্ষকদের পরের গ্রেডেই হওয়া উচিত। কারণ শিক্ষক যদি হন ১৫তম গ্রেডের কর্মচারী, তাহলে তা জাতির জন্যও লজ্জার। তাই বেতন বৈষম্য দূর করা জরুরি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম প্রহরীরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন। তাই তাদের চাকরি জাতীয়করণ হওয়াও সময়ের দাবি।

অনেক অভিভাবক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার সন্তানকে না দিয়ে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করান। এর জন্য দায়ী হাতেগোনা কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কেননা তারা ক্লাসে পাঠদানে মনোযোগী নন।

এমন শিক্ষকদের সঠিকপথে আনতে নিয়মিত ক্লাস মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষককে মনে রাখতে হবে, তিনি একজন শিক্ষক। তবেই প্রাথমিক শিক্ষা হবে যুগোপযোগী।

অনেক বিদ্যালয়ে এখনও পয়ঃনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করা হয়নি। অনেক বিদ্যালয়ে এখনও একাডেমিক বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়নি, যা অত্যন্ত জরুরি। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বিনীত অনুরোধ, প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধান নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করুন।

মুন্নাফ হোসেন : সহকারী শিক্ষক, মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×