শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ চাই

  নাজমুল হোসেন ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

কাল বাদে পরশু অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশজুড়ে বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। গত কয়েকদিন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়ে জনগণের কাছে প্রার্থীরা ভোট চেয়েছেন।

প্রশ্ন হল, নির্বাচনের পর নতুন সরকার কি এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে? এবারের নির্বাচনে ভোটারদের বড় একটা অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের অনেকেই এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। রাজনৈতিক দলগুলো এই তরুণদের চিন্তা মাথায় নিয়ে কমবেশি তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ইশতেহার তৈরি করেছে।

যেমন, আওয়ামী লীগ নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা, দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য নির্মূল, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার কথা বলেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলগুলোও প্রায় অনুরূপ প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ক্ষমতায় গেলে এসব প্রতিশ্রুতি কি তারা পালন করবেন? নাকি এসব শুধুই ভোট চাওয়ার কৌশল?

স্বাধীনতার পর আমরা ১০টি জাতীয় নির্বাচন দেখেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই বিরোধী দলগুলো সবসময় নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের দাবি তুলেছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

এমনি দাবিতে ব্যর্থ হয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় দশম জাতীয় নির্বাচন সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এমন নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলও কামনা করেনি। অপরদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার তিক্ত ফল বিএনপি এখনও ভোগ করে চলেছে।

এবারও তারা আশা করেছিল, একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, যেখানে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে তাদের সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে। অবশেষে তারা ক্ষমতাসীন দলের অর্থাৎ দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। দলীয় সরকার বলছে, নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু তাতেই কি বিরোধী দলগুলোর শঙ্কা কমেছে?

চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা এবং প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণায় নামলে সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখতে পেয়েছি বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা, দলীয় কার্যালয় ও সভা-সমাবেশে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনের একতরফা ভূমিকা। অর্থাৎ শুরুতেই অশনিসংকেত! এই যদি হয় ঢাকঢোল পেটানো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অবস্থা, তাহলে নির্বাচনে কী হবে তা ভেবে শঙ্কিত হই।

আমরা একবারও কি ভেবেছি, এসবের মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে কোথায় ঠেলে দিচ্ছি? আমরা শত শত বছর অন্যের দ্বারা শাসিত ছিলাম। নিজেরা দেশ শাসনের ভার পাওয়ার পর অল্পদিনেই আমরা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছি! এটা খুবই দুঃখজনক ও লজ্জার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে কড়া নজরদারির পাশাপাশি কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। ফলস্বরূপ প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন থেকে দেশ মুক্ত হবে। তবেই শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অবাধ জাতীয় নির্বাচনের স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে।

নাজমুল হোসেন : প্রকৌশলী

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×