প্রতীক্ষিত নির্বাচন

সব ভালো তার শেষ ভালো যার

  যুগান্তর ডেস্ক    ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন

আজ ভোট। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবার কাগজের ব্যালটের পাশাপাশি ৬টি আসনের ৮৪৫টি কেন্দ্রের ৫ হাজার ৩৮ ভোটকক্ষে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।

সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটাররা বিরতিহীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন; এরপর ফলাফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নির্ধারিত হবে কোন দল ক্ষমতাসীন হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটের মাঠে টিকে থাকা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা কাজ করছিল, তা প্রায় কেটে গেছে।

তবে ভোট গ্রহণ কতটা শান্তিপূর্ণ হবে তা নিয়ে শঙ্কা এখনও কাটেনি। বস্তুত ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবেন কিনা, এমন শঙ্কা কাজ করছে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের মধ্যে। অবশ্য একই উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের কথাবার্তায়ও। এ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে ভোটাররাও মুক্ত নয়, যদিও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে সবাইকে এই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে- ভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই এবং ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে।

এ লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নিয়েছে ইসি। নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধে নিয়োজিত রয়েছেন সেনা ও নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাত লাখ সদস্য। এর বাইরে মাঠে রয়েছেন ২ হাজারের বেশি জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অংশীজনসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ নির্বাচনী মহাযজ্ঞের সুন্দর সমাপ্তি ঘটবে, এটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবার ২৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯ এবং এসব দলের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন ১ হাজার ৮৬১ প্রার্থী। এর মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৭৩৩ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১২৮। উল্লেখ্য, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় পুনঃতফসিল অনুযায়ী গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোট হবে ২৭ জানুয়ারি। প্রায় এক দশক পর নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে আজ মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, যা বলাই বাহুল্য। এবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি।

অবশ্য দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও আগেরবারের মতো জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য পছন্দের দল নিয়ে রাজনৈতিক জোট গঠন করেছে। সন্দেহ নেই, আজকের নির্বাচনী মহারণে জয়লাভের প্রবল আশা দু’পক্ষেরই। তবে দেশের ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৫ পুরুষ এবং ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১২ নারী ভোটারের হাতেই রয়েছে ক্ষমতায় আরোহণের ‘চাবি’। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এ চাবি যাদের হাতে ন্যস্ত হবে, তারা নিশ্চয়ই দেশবাসীকে হতাশ করবেন না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সংঘাত, সহিংসতা, এমনকি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হলে অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতার পালাবদল বিচিত্র কিছু নয়। এরকমটি ঘটলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে, যা কারও কাম্য নয়। রাজনৈতিকভাবে অসহিষ্ণু এ দেশটিতে নির্বাচন, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কেবল সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম এবং দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ সরকারের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিরূপ প্রভাব পড়বে শেয়ার বাজারেও; এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিনিয়োগকারীরা। তাছাড়া সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত ও রফতানিমুখী শিল্প ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে এসব শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার শ্রমিকের ভাগ্যও হয়ে পড়বে অনিশ্চিত। সবচেয়ে বড় কথা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম না হলে বিনিয়োগ ও উন্নয়নে কাক্সিক্ষত সাফল্য আসবে না। স্বাধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশপাশি নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দল এবং সংবেদনশীল নাগরিক সমাজ যূথবদ্ধভাবে ন্যায়নিষ্ঠ ও পরিচ্ছন্ন মনমানসিকতার পরিচয় দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল ও অর্থবহ করে তুলবে, এটাই কাম্য।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×