ভোট দেব যাকে খুশি

  মো. আখতার হোসেন আজাদ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাম্পাস

কুষ্টিয়ার মধুপুর বাজারে একটি হোটেলে খাবার খেয়ে ক্যাম্পাসে আসার জন্য আমরা তিন বন্ধু ভ্যানের অপেক্ষা করছি। রাস্তার পাশেই একটি চায়ের দোকান। দোকানির সঙ্গে গল্প করছি।

এক পর্যায়ে জিজ্ঞেস করলাম, মামা, ভোটের অবস্থা কীরকম দেখছেন? চোখে আতঙ্কের ছাপ নিয়ে উত্তর দিলেন মামা- ‘আপনারা ভার্সিটিতে পড়েন। জানি না আপনারা কে কোন দল করেন। তবে এখন ভয়ে কেউ কোনো কথা কইতে পারছে না।’ তিনি পাশের একটি দোকান দেখিয়ে বললেন, ‘ওই যে দোকানটা দেখছেন, একটু আগেই ভেঙে দিল।

ওই দোকানদার বলেছিল, এবার সরকার আর টিকতে পারবে না। তাতেই ওকে মেরে ওর দোকান ভাংচুর করে চলে গেছে।’ তারপর আশপাশের নির্বাচনী পোস্টারগুলো দেখিয়ে বললেন, ‘দেখছেন না, অন্য কারও পোস্টার নাই।’

দেশের রাষ্ট্রপরিচালকরা দাবি করেন, দেশে গণতন্ত্র বিদ্যমান। লোক প্রশাসনের ছাত্র হওয়ায় গণতন্ত্রের সংজ্ঞা একটু হলেও জানি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবার মতপ্রকাশের অধিকার থাকার কথা। কিন্তু উপরের ঘটনাটির সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের গণতন্ত্রের সংজ্ঞার মিল খুঁজে পেতে আমার বেশ কষ্টই হল।

ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার উদ্দেশ্য হল জনগণের সেবক নির্ধারণ করা, যারা কিনা নিজ এলাকার উন্নয়ন করবে, নাগরিকের আশা-আকাক্সক্ষা-চাহিদা পূরণ করবে। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতিকরা হয়তো মনের গভীরে গেঁথে নিয়েছেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়া মানেই ক্ষমতা হাতে পাওয়া। তারপর প্রথম ও প্রধান কর্মসূচিটি যেন বিরোধী শক্তিকে দমন করা এবং নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্র“তিগুলো ভুলে যাওয়া। যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে, সবাই এ ধারা বজায় রেখেছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও নির্বাচন এলেই শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবারই মনে এক চাপা আতঙ্ক কাজ করা শুরু করে। এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করতে চাই রাজনীতিকদের জেদাজেদি, একগুঁয়েমি, অদূরদর্শিতা, প্রতিহিংসাপরায়ণতা ও রেষারেষিকে।

দেশের তরুণ প্রজন্ম এই গতানুগতিক রাজনীতির ধারা থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়। আমরা এমন রাজনীতিচর্চা দেখতে চাই, যার মূল লক্ষ্য থাকবে ক্ষমতা নয়, জনগণের সেবা। তবে এটি সত্য, আমাদের দেশের রাজনীতিকরা কাজে না হোক, অন্তত বক্তৃতার মঞ্চে এই নীতিবাক্যটি ব্যবহার করে থাকেন। নেতারা মুখে যতই বলুন না কেন, ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত, নির্বাচন এলেই দেখা যায় সেসব ব্যক্তিই ধর্মকে পুঁজি করে, ধর্মীয় পোশাক পরে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা যেন এ দেশের নির্বাচনের একটি অন্যতম ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান দুই জোটকেই জনগণের কাছে প্রতিজ্ঞা করতে হবে, নির্বাচনে উভয়েই সহনশীল আচরণ করবে এবং জনগণের দেয়া রায় নির্দ্বিধায় মেনে নেবে। তবে সরকারি দলের কাছে এ ক্ষেত্রে প্রত্যাশা বেশি থাকবে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, জনগণের কল্যাণে তারা কাজ করবে, চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখবে, বিরোধী শক্তিকে নিপীড়ন করার মতো নিকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন বন্ধ করবে, প্রতিহিংসার রাজনীতিচর্চা বন্ধ করবে- দলগুলোকে এ প্রতিজ্ঞা করতে হবে। সর্বসাধারণ যেন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এমন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রধান দুই জোটকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণ ভোট দিলে জাতীয় সংসদে যাব, নচেৎ জনগণের পাশে থেকে গঠনমূলক সমালোচনা করে দেশকে এগিয়ে নেব- এ পণ যদি সব দলের প্রার্থীদের হয়, নির্দ্বিধায় বলতে পারি শান্তির পথ আর দূরে নেই।

মো. আখতার হোসেন আজাদ : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×