একাদশ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ

অংশগ্রহণমূলক হলেও শান্তিপূর্ণ হয়নি

  যুগান্তর ডেস্ক    ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অংশগ্রহণমূলক হলেও শান্তিপূর্ণ হয়নি

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে গতকাল। অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেভাবে শান্তিপূর্ণ ভোটের আশা করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তেমনটি হয়নি।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রভাব বিস্তারের মহড়ার কারণে বিরোধী দলের এজেন্ট তো দূরের কথা, খোদ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের পর্যন্ত অনেক স্থানে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেননি বা গেলেও তাদের বের করে দেয়া হয়েছে। এর চেয়েও বড় কথা, ভোটের আগের রাত থেকে ভোট চলাকালীন বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় এ সম্পাদকীয় লেখার সময় পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে সরকারি দলেরও ৯ জন রয়েছেন- যারা বিরোধীদের হামলার শিকার। একাধিক স্থানে খোদ প্রতিপক্ষ প্রার্থীর ওপর হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্প, এমনকি বাড়িঘরে পর্যন্ত হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অনেক বিরোধী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

আশার কথা, নির্বাচনে কারচুপি, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আনলেও প্রধান বিরোধীপক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট বর্জন করেনি। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থেকেছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি তাদের গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতি বলতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারত ইসি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ইসির ভূমিকায় অনেকেই সন্তুষ্ট ছিলেন না।

প্রশ্ন হল, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা কি কমিশন নিয়েছে? এছাড়া অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি এবং বহু হতাহতের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে তার উড়িয়ে দেয়াও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

নির্বাচনী সহিংসতা আমাদের দেশে যেভাবে জেঁকে বসেছে, তা থেকে বেরোনো গেল না এবারও। নির্বাচনের আগে প্রচারণার সময় তুলনামূলক কম সহিংসতা হওয়ায় আশা করা হয়েছিল যে, এবারের নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণ হবে। কিন্তু সরকারি দলের ক্ষমতায় থেকে যাওয়া এবং বিরোধীদের ক্ষমতায় আসার চেষ্টা থেকে বের হয়ে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মানসিকতা দেখা যায়নি এবারও। ফলে গণতন্ত্রের মূল কথা, অন্যের রায় ও ভোটাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা অনুপস্থিতই থেকে যাচ্ছে এবং আমাদের গণতন্ত্রের অর্থ দাঁড়িয়ে গেছে ‘বিচার মানি তালগাছ আমার’। বর্তমান সময়ে এমন পরিস্থিতি কারও কাম্য নয়।

আমরা মনে করি, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে জনগণের ভোটাধিকারের সুষ্ঠু প্রয়োগ ও নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। সহিংসতা, ভোট দেয়ার অধিকার খর্ব হওয়ার পরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ফল যেমন সবাইকে মেনে নিতে হবে, তেমনি নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়মের পেছনে দায়ীদের তদন্তসাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি স্বাধীন ও সত্যিকারার্থে ক্ষমতাশীল ইসির বিকল্প নেই। তফসিলের পর থেকেই বিষয়টি অনুধাবন করা গেছে। ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য স্বাধীন ইসি ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের দিকে নজর দিতে হবে, এখনই।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×