ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি

খেলাপি ঋণের বিস্তার রোধ জরুরি

  যুগান্তর ডেস্ক    ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি
কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ৯টি ব্যাংক বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ৯টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ১৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। দেখা যাচ্ছে, মূলধন ঘাটতির তালিকার বেশিরভাগই সরকারি ব্যাংক।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মোট মূলধন ঘাটতি ১৭ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ১৫ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। এসব ব্যাংকের দক্ষতা না বাড়িয়ে জনগণের করের টাকায় বারবার মূলধন জোগান দেয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা থাকলেও সেদিকে কর্ণপাত করা হয়নি। চলতি অর্থবছরের বাজেটেও সরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, মূলধন ঘাটতি ব্যাংকিং খাতে একটা বড় সমস্যা। তবে তার চেয়েও বড় সমস্যা হল খেলাপি ঋণের বিস্তার। মূলত খেলাপি ঋণের প্রভাবে মূলধন ঘাটতি হয়। নিয়মানুযায়ী ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে গড়ে ২৫ ভাগ মূলধন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হয় যা ‘প্রভিশন’ নামে পরিচিত। প্রভিশনে রাখা অর্থ ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারে না বিধায় ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর কুফলও সাধারণ গ্রাহকদের বইতে হয়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। ব্যাংকগুলোর দেয়া ঋণ যাতে কুঋণে পরিণত না হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। এজন্য অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত, সর্বোপরি ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে খেলাপি ঋণের বিস্তার রোধ ও অনাদায়ী ঋণ আদায়ে সরকারের আরও কঠোর হওয়া উচিত।

কিছুদিন আগে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। দুঃখজনক হল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ তো কমেইনি, বরং তা আরও বেড়েছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করছে ও এর প্রভাব পড়ছে ঋণ ব্যবস্থাপনায়। ফলে এগোতে পারছেন না ভালো উদ্যোক্তারা। পরিণামে বাড়ছে না বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের বিস্তার রোধ করে মূলধন ঘাটতির হার কমাতে পারলে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে, তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×