দূষণ কমানোর দৃষ্টান্ত

  আবু আফজাল মোহাম্মদ সালেহ ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দূষণ কমানোর দৃষ্টান্ত

যানবাহনের পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেক বেশি। শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ ঘটে পরিবহন খাত থেকে। জ্বালানি তেলের ব্যবহার, নিয়মিত মেরামত না করা, লক্কর-ঝক্কর যান ইত্যাদি কারণে পরিবেশ দূষণ ঘটে থাকে।

অতিরিক্ত যানবাহনের ওপরও দূষণমাত্রা নির্ভর করে। বিশ্বের কয়েকটি নগর কর্তৃপক্ষ যানবাহনের চাপ কমিয়ে পরিবেশ দূষণের মাত্রা কমিয়ে বা জিরোতে আনতে বেশকিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নরওয়ের রাজধানীতে ডিজেলচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ করা হয়েছে ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি।

অবশ্য অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য সরকারি পরিষেবার যানবাহন ডিজেলেও চলতে পারে। ২০১৯ সাল থেকে সিটি সেন্টারে সরকারি পার্কিং কমিয়ে দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে ফ্রান্সের রাজধানীতে ডিজেলচালিত গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ হবে। ২০৩০ সাল থেকে প্যারিসে ডিজেল বা পেট্রল- সব ধরনের জ্বালানি তেলে চলা গাড়ি নিষিদ্ধ করা হবে। প্যারিসে শুধু ইলেকট্রিক গাড়ি চলবে। আমরাও গবেষণা করে অনুরূপ বা বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি।

মানুষ যেন গাড়ি নিয়ে শহরের কেন্দ্রে আসা কমিয়ে দেয়, সে জন্য লন্ডনের কেন্দ্রে গাড়ি চালাতে গেলে দিনে ১০ পাউন্ড বা প্রায় ১৪ ডলার কিংবা ১১ ইউরো ‘ভিড়ের মাশুল’ গুনতে হয়। রাস্তায় লাগানো যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর প্লেট চিনে নিতে পারে অর্থাৎ ধরতে পারে ‘ভিড়ের মাশুল’ দেয়া হয়েছে কিনা। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ২০১৯ সাল থেকে ডিজেলচালিত গাড়ি ঢোকা বন্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য রাখা হয়েছে; শহরের অর্ধেক বাসিন্দা সাইকেলে চড়ে অফিসে যান। আমরা এ নিয়েও ভাবতে পারি। একটি লেন শুধু সাইকেল আরোহীদের জন্য রাখতে পারি। এতে যানজট কমবে, মানুষ সাইকেলে চড়ে অফিস, কর্মস্থলে যেতে পারবে। এতে খরচ কমে যাবে, পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেক হ্রাস পাবে। আর রাজধানীতে যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবেই। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে বা বরাদ্দে নতুন চিন্তা আনা যেতে পারে। যাতে করে একটি গাড়ি অনেকে ব্যবহার করতে পারে সেই চিন্তাও করা যেতে পারে।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের রয়্যাল থিয়েটারের সামনের চত্বরটিতে ইতিমধ্যেই গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ, অন্যান্য এলাকাও ‘পথচারী এলাকা’ ঘোষণা করার প্রচেষ্টা চলছে। লক্ষ্য হল, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মাদ্রিদের গোটা কেন্দ্রীয় অংশটি শুধু পথচারীদের জন্য খোলা রাখা। এর কারণ হল, মাদ্রিদের চারপাশে পাহাড় থাকার ফলে দূষিত বায়ু শহরেই আটকা পড়ে ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। আমাদের রাজধানী ঢাকায় ফুটপাত বেশিরভাগই অবৈধ দখলে; বাণিজ্যিক কাজে বা দোকান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এতে শহরের যানজট অনেক কমে যাবে। দুর্ঘটনাও কমবে। সরু রাস্তা প্রশস্ত হবে।

আমাদের রাজধানীকে পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্ত করতেই হবে। আগামীর পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে হবে শিশুদের জন্য। যানবাহন সংক্রান্ত পরিবেশ দূষণ কমাতে পারলেই শহরে পরিবেশ দূষণের হার অনেকাংশে কমে যাবে। আমরা সবাই মিলে এগিয়ে এলেই তা সম্ভব হবে। গড়ে উঠবে সবুজ শহর। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপ মিলেই বিরাট কিছু তৈরি হয়।

আবু আফজাল মোহাম্মদ সালেহ : প্রাবন্ধিক, চুয়াডাঙ্গা

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×