বন্ধ হোক প্রশ্ন ফাঁস

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আফসানা রিজোয়ানা সুলতানা

বন্ধ হোক প্রশ্ন ফাঁস

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে ব্যাপক। কিন্তু এতে পরিস্থিতি একটুও বদলেছে বলে মনে হয় না। একের পর এক বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা, নিয়োগ পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা এবং বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আর এর সঙ্গে বাড়ছে প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিযোগিতা।

সমাজে যারা এই অন্যায় সুবিধাটি প্রদানকারী ও গ্রহণকারী তাদের বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, একবার এর ফলাফলের কথা ভেবে দেখুন। দয়া করে ত্রিশ লাখ জীবনের বিনিময়ে প্রাপ্ত এ দেশটিকে এভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না।

বর্তমানে একটি শিশুকে যদি ৫ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করা হয়, তাহলে সে মাত্র ১০ বছর বয়সে পিইসি এবং মাত্র ১৩ বছর বয়সে জেএসসি পরীক্ষা দেবে। আমাদের সমাজে ১৮ বছরের নিচে সবাইকে শিশু বলে গণ্য করা হয়। এর যুক্তিসঙ্গত কারণও আছে।

এ সময়টুকুতে মানুষ নিজে থেকে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে পারে না। তার পরিবার-সমাজ তাকে যেভাবে শেখায় সে সেভাবেই শেখে, যেভাবে বোঝায় সেভাবে বোঝে।

এ অবস্থায় যদি তার হাতে পরীক্ষার আগের রাতে/সকালে প্রশ্নের একটি কপি দিয়ে বলা হয় সেটি আয়ত্ত করে যেতে আর সে পরদিন পরীক্ষার হলে গিয়ে একই প্রশ্ন পেয়ে সব মুখস্থ লিখে আসে, তাহলে সে ভালো একটি ফলাফল করবে বটে, কিন্তু তার বিনিময়ে সে কী হারাবে তা আমরা ক’জন হিসাব করি? ওই শিশুটি তার কৈশোরে পা রাখার আগেই হারিয়ে ফেলে তার সৃজনশীলতা, কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা, নৈতিকতা আর সদা সৎ পথে থাকার চারিত্রিক দৃঢ়তা। অন্যদিকে সে ভালোভাবেই শিখে নেয় কিভাবে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে চলতে হয়।

এসব মানবিক গুণ হারিয়ে সে যখন যৌবনে পা রাখবে, তখন ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে প্রাপ্ত সার্টিফিকেটগুলো নিয়ে আবার একটি চাকরির পরীক্ষা দেবে এবং সেখানেও একই পন্থা অবলম্বন করে একটি পদে বসবে। এ অবস্থায় এই দেশ ও জনগণ তার কাছ থেকে কী পাবে?

আমি যখন এ লেখাটি লিখছি সেদিনের পত্রিকার একটি উল্লেখযোগ্য সংবাদ হল, বরগুনার বেতাগীতে ১৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে দ্বিতীয় শ্রেণীর গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস।

আমি অনেক চিন্তা করেও এর কোনো ব্যাখ্যা পেলাম না- যে সময়টা শিশুদের শুধুই শেখার সময়, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতার কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয়, সেই সময়টাতেও কারা এমন কুরুচিপূর্ণ কাজটি করল? গত বছরজুড়ে প্রশ্ন ফাঁসের নানা ঘটনা ঘটলেও আশার সংবাদ এটাই যে, বছরের একেবারে শেষদিকে ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে কোনোরকম প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ছাড়াই।

প্রশ্ন ফাঁস বিষয়টি আমাদের শিশুদের সব মানবিক গুণ নষ্ট করে দিচ্ছে। যে বয়সটা শিশুদের চরিত্র গঠনের সময়, সে বয়সেই তারা পরিচিত হচ্ছে এ অনৈতিক কাজটির সঙ্গে। এ ব্যপারের আমাদের সবার সচেতন হওয়া জরুরি। এটাকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে নিকট ভবিষ্যতে আমাদের একটি পঙ্গু প্রজন্ম দেখতে হতে পারে।

আফসানা রিজোয়ানা সুলতানা : শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়