নাব্য সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নাব্য সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন
ফাইল ছবি

ব্রক্ষ্মপুত্র ও যমুনায় নাব্য সংকটে গাইবান্ধার সঙ্গে কুড়িগ্রাম, জামালপুর ও বগুড়ার নৌযোগাযোগ রক্ষাকারী খেয়াঘাটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার সংবাদ উদ্বেগজনক।

জানা গেছে, নাব্য সংকটে এরই মধ্যে অন্তত ৫২টি খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সংশ্লিষ্ট চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সীমাহীন ভোগান্তি ছাড়াও সেখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অন্যদিকে পদ্মা নদীতে প্রয়োজনীয় নাব্য না থাকায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় সার বোঝাই অন্তত অর্ধশত কার্গো জাহাজ আটকে আছে বলে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এভাবে মাঝপথে জাহাজ আটকে পড়ার ঘটনায় মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অর্থের অপচয় হচ্ছে। আশঙ্কার বিষয় হল, এ ধরনের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে যথাসময়ে সারের প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে এবং এতে কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় ড্রেজিংসহ অন্যান্য কার্যকর পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে উল্লিখিত নদ-নদীগুলোয় নাব্য ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক দেশ। এক সময় জালের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য খরস্রোতা নদ-নদী আমাদের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করলেও আজ সেগুলো জীর্ণ-শীর্ণ অথবা মরণাপন্ন অবস্থায় উপনীত হয়েছে। অনেক নদী ইতিমধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়েও গেছে।

এজন্য দায়ী আমাদের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ড ও অদূরদর্শিতা। কিছু দুর্বৃত্ত দেশের নদ-নদীগুলো দখল করে বাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আবাসিক প্লট, ইটভাটা গড়ে তোলার পাশাপাশি নানা ধরনের দূষণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ কাজে দুর্বৃত্তরা ক্ষমতাসীন দলের নাম-পরিচয় ব্যবহার করছে এবং তারা প্রচলিত আইন ও নিয়ম-কানুনের খুব একটা তোয়াক্কা করছে না।

দেশের নদ-নদীগুলোকে দূষণ ও ভরাট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই আইনের যথাযথ প্রয়োগ হওয়া দরকার। তাছাড়া ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের উল্লেখযোগ্য নদীগুলোর উৎস দেশের ভূ-সীমানার বাইরে।

অভিন্ন নদীগুলোর গতিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে ভারত ও নেপালের সঙ্গে গঠনমূলক উদ্যোগ নেয়া উচিত, যাতে তা কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়।

আন্তর্জাতিক কোনো নদীর গতিধারায় ব্যত্যয় ঘটানো, নদীর ওপর বাঁধ তৈরি কিংবা নদীর প্রবাহকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার কাজগুলো একতরফাভাবে হতে পারে না। কারণ তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক নদ-নদীগুলোর ব্যাপারে আমাদের অবস্থান ও দাবি আরও জোরালো করার লক্ষ্যে শক্ত কূটনৈতিক ভূমিকা গ্রহণ করা জরুরি।

সরকার এ বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি শক্ত হাতে নদী দখল ও দূষণ রোধ করবে এবং একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও পদ্মাসহ সারা দেশের নদ-নদীগুলোয় নৌচলাচল স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×