অর্থমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি

দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল্ ফাইল ফটো

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বঙ্গভবনে শপথ শেষে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমনকিছু কথা বলেছেন, যা দেশের শিল্প খাত তথা অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক।

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন তিনি। বলেছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের সময় আত্মীয়স্বজন চেনা যাবে না। পাশাপাশি ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা দিতে হবে। অর্থমন্ত্রীর এসব কথা প্রণিধানযোগ্য। দেশে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে নানা সমস্যা। এ খাতের একটি বড় সমস্যা হল উচ্চ খেলাপি ঋণ।

মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা যায়, খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে। খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকিং খাতে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেই ঝুঁকি তৈরি করছে। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপির প্রভাব পড়ছে ঋণ ব্যবস্থাপনায়। ফলে এগোতে পারছেন না ভালো উদ্যোক্তারা। পরিণামে বাড়ছে না বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। কাজেই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিগত সময়ে দেখা গেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ পুনঃতফসিল, ঋণ অবলোপন ইত্যাদির মাধ্যমে ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্ত থেকেছেন। কিন্তু এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণ সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি, বরং তা খেলাপি ঋণ আদায় প্রক্রিয়াকে আরও প্রলম্বিত করেছে। তাই খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

সমাধানটি এমন হওয়া উচিত যাতে ঋণখেলাপিরা যত বড় প্রভাবশালীই হোন, তাদের কাছ থেকে খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হবে। আশার কথা, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে এমন দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, ব্যাংক ঋণের সুদহার ও স্প্রেড কমাতে হবে। বস্তুত, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যাংকগুলো সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে যে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, এরও একটি কারণ উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে তাদের মূলধন ঘাটতি।

বিগত সময়ে মূলধন সংকটসহ ব্যাংকিং খাতের সমস্যা নিরসনে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বটে; কিন্তু তাতে সংকট কাটেনি।

তাই আমরা মনে করি, সংকট নিরসনের স্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে এ খাতটিকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। ব্যাংকিং খাত সংস্কারে একটি কমিশন গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিটি খাত সংস্কার করতে হবে। ব্যাংকিং খাতও নিশ্চয়ই এর একটি। আশা করি, এ খাতের দ্রুত সংস্কারে দৃষ্টি দেবেন তিনি।

দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো নয়। গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সমস্যা এবং ঋণে উচ্চ সুদহার বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার একটি বড় কারণ। বিনিয়োগ না বাড়ায় বাড়ছে না কর্মসংস্থানের সুযোগ।

বিশ্বের অনেক দেশেই বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য উদ্যোক্তাদের নানারকম সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হয়। আমাদের দেশেও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে এ নীতি অনুসরণ করা উচিত।

একটি নতুন সরকার তাদের যাত্রা শুরুর সময় সবকিছু নতুনভাবে শুরু করার পরিকল্পনা নেয়, যাতে আগে যেসব ভুলত্র“টি ছিল তা কাটিয়ে সফলতার সঙ্গে তারা দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারেন।

বস্তুত সরকারের যাত্রার শুরুটাই সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার প্রকৃষ্ট সময়। বিগত সময়ে যেসব ক্ষেত্রে সরকার নানা কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি, এবার সুযোগ এসেছে সেসব ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়ার। যত দ্রুত তা নেয়া হবে ততই মঙ্গল।