খাবারে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট

নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয় ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাবারে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট

কর্মব্যস্ত মানুষ কাজের ফাঁকে দ্রুত দুপুরের খাবারটা সেরে ফেলেন এবং আরও দ্রুততম সময়ে বিকালের নাশতাটা সারেন প্রক্রিয়াজাত খাবার দিয়ে।

যারা দীর্ঘ সময়ে এভাবে খাবার গ্রহণ করেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ হল বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবারের কারণে তারা যে কোনো সময়ে জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

উচ্চ তাপমাত্রায় তৈরিকৃত খাদ্য এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে সাধারণত উচ্চ মাত্রার ট্রান্সফ্যাট থাকে। সাধারণত রেস্টুরেন্টে খাবারের স্বাদ-গন্ধ বাড়ানোর জন্য ট্রান্সফ্যাট ব্যবহার করা হয়। মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

সাধারণভাবে রেস্টুরেন্টের খাবার কিংবা প্রক্রিয়াজাত যেসব খাবার প্রতিদিন আমরা খেয়ে থাকি, সেসব খাবারে কী পরিমাণ ট্রান্সফ্যাট আছে তার কোনো খবর রাখি না।

এ নিয়ে কোনো বিক্রেতাকে প্রশ্ন করলে বিব্রত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। বস্তুত এ বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের দেশের কতজন মানুষ সচেতন, এটাও এক বড় প্রশ্ন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাবারে উচ্চমাত্রার ট্রান্সফ্যাট থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে খাবারে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক দুই শতাংশ ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ করা যেতে পারে। এর বেশি হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আমাদের দেশে এখনও যেখানে বিভিন্ন খাবারের উৎপাদন, ব্যবহারের শেষ তারিখ- এসব তথ্যের উল্লেখ থাকে না, সেখানে খাবারে কোনো ক্ষতিকর উপাদান আছে কিনা, ক্রেতা তা বুঝবে কী করে? বস্তুত আমরা প্রতিদিন কতটা ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান মিশ্রিত খাবার গ্রহণ করি তাও বোঝার উপায় নেই। ফলে এ সংক্রান্ত জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার নিয়তি থেকে আমাদের বের হওয়ার উপায় নেই।

এ সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ না নিলে অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা বন্ধ হবে না। জনগণ সচেতন হলে উল্লিখিত সমস্যা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

রেস্টুরেন্টের স্বাদ-গন্ধযুক্ত ভাজা খাবার পরিহার করে সেদ্ধ খাবারকে প্রাধান্য দিলে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

উন্নত দেশগুলোতে সব ধরনের খাদ্য উপাদান এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের মান রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হলেও আমাদের দেশ এক্ষেত্রে কতটা পিছিয়ে আছে- গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভেজাল খাবারবিষয়ক প্রতিবেদনগুলোর দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হবে। বস্তুত এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলে আমাদের অনেক লক্ষ্যই অপূর্র্ণ থাকবে। কারণ শারীরিকভাবে অসুস্থ কোনো ব্যক্তির পক্ষে যথাসময়ে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×