প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় তরুণরা

  নাজমুল হোসেন ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় তরুণরা
প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চায় তরুণরা। ফাইল ছবি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। তারা জাতিকে আশ্বস্ত করেছেন ইশতেহারে বর্ণিত প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয়ে। আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য ছিল নানা প্রতিশ্রুতি। এর মধ্যে দেড় কোটি বেকারের কর্মসংস্থান, তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা তৈরি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি হল সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো। এটি ছিল তরুণ সমাজের একটি বড় দাবি। বিগত সময়ে মন্ত্রীরা বারবার এ ব্যাপারে তরুণদের আশার আলো দেখিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

গত সাত বছর ধরে তরুণদের দাবি ছিল, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ন্যূনতম ৩৫ বছর করা হোক। বিভিন্ন যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে বুকভরা আশা নিয়ে এ দাবিতে সারা দেশের যেসব তরুণ আন্দোলন করে আসছিল, তাদের বর্তমান বয়স আজ ৩৫-এর দ্বারপ্রান্তে। তাই আশা করব, সবাই যাতে অন্তত আবেদনের পর্যাপ্ত সুযোগ পায় সে জন্য চাকরির বয়সসীমা কমপক্ষে ৩৮-৪০ বছর নির্ধারণ করা হবে। অথবা ৩৫ বছর পার হওয়াদের জন্য চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো বিশেষ সুবিধা দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সব শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে সব মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হোক।

কেউ বলতে পারেন, এতে করে স্বাধীনতাবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধীর সন্তানরা প্রজাতন্ত্রের কর্মে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে কলঙ্কিত করতে পারে। এমনটি যাতে না ঘটে সে জন্য চাকরিতে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র প্রদানের আগে সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রার্থীদের পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা যেতে পারে। যারা বিশেষ করে বিভিন্ন সমস্যা যেমন- সেশনজট, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কয়েক বছর হারিয়ে বয়স বাড়ানোর দাবি তুলেছে, মূলত তাদেরই এ সুবিধা পাওয়া উচিত বা তাদেরকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সুবিধা দেয়া উচিত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইলেই কোনো বিশেষ আইনের মাধ্যমে এটি করতে পারেন। আইন তো প্রয়োজনের তাগিদেই তৈরি করা হয়। তাই ত্রিশোর্ধ্বদের জন্য সরকার এমন একটি আইন তৈরি করতে পারে, যেখানে প্রজ্ঞাপনের পর কমপক্ষে ৩ বছর পর্যন্ত আইনের আওতাভুক্তরাই শুধু সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারবে। আর এই ক্ষণস্থায়ী বিশেষ আইনটি নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আপনা থেকেই বাতিল হয়ে যাবে।

এতে একদিকে যেমন চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা স্থায়ীভাবে বাড়বে না, তেমনি অন্যদিকে নবাগত চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে বা অবসরের বয়স বাড়ানো নিয়ে নতুনভাবে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে না। বর্তমানে যেহেতু আগের মতো সেশনজট নেই, তাই নতুনরা এই সুবিধা না পেলেও চলবে। তাদের জন্য অন্য কোনো সুবিধার কথা ভাবা যেতে পারে।

তরুণদের জন্য ইশতেহারে রাখা অনেক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর জন্য কোনো সময় বা বাড়তি পরিকল্পনার দরকার আছে বলে মনে করি না। তাই ইশতেহারে বর্ণিত এ প্রতিশ্রুতির যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, হতাশায় দিনাতিপাত করা বেকারদের ততই মঙ্গল হবে। তাই আশা করব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অতি গুরুত্বের সঙ্গে ইশতেহারে তরুণদের জন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

নাজমুল হোসেন : প্রকৌশলী ও লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×