খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ

অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল খেলাপি ঋণ আদায়ে উদ্যোগী হয়েছেন, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ সংক্রান্ত যেসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে দ্রুত ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হবে।

এ আইনের সব ধারা ও উপধারার দুর্বলতা শনাক্ত করে এতে সংশোধনী আনা হবে। এছাড়া ইতিপূর্বে অবলোপন করা ঋণ পর্যালোচনা করতে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেন ও কী কারণে ঋণখেলাপি হয়েছে এবং তা অবলোপন করা হয়েছে এবং এর পেছনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবে এ কমিটি।

আরও আশাব্যঞ্জক, অর্থমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা, এ টাকা নিলে ফেরত দিতে হবে। দেশের জনগণের টাকা বেহাত হোক বা ফেরত না আসুক, এটি চাইতে পারি না। সরকারি বা বেসরকারি যে ব্যাংক থেকেই ঋণ নেয়া হোক না কেন, ঋণের অর্থ ফেরত দিতে হবে।’

খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়ে এ দৃঢ় অবস্থানের জন্য আমরা অর্থমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। দেশে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল উচ্চ খেলাপি ঋণ। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বস্তুত খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকিং খাতে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেই ঝুঁকি তৈরি করছে। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপির প্রভাব পড়ছে ঋণ ব্যবস্থাপনায়।

এ কারণে এগোতে পারছেন না ভালো উদ্যোক্তারা। ফলে বাড়ছে না বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। কাজেই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিগত সময়ে দেখা গেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঋণ পুনঃতফসিল, ঋণ অবলোপন ইত্যাদির মাধ্যমে ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্ত থেকেছেন।

কিন্তু এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণ সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি, বরং তা ঋণ আদায় প্রক্রিয়াকে আরও প্রলম্বিত করেছে। তাই খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেয়া দরকার। সমাধানটি এমন হওয়া উচিত যাতে ঋণখেলাপিরা যত বড় প্রভাবশালীই হোন, তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

আশার কথা, অর্থমন্ত্রী এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন। এর আগে বঙ্গভবনে শপথ শেষে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছিলেন। এমন কথাও বলেছিলেন যে, খেলাপি ঋণ আদায়ের সময় আÍীয়স্বজন চেনা যাবে না। পাশাপাশি ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা দেয়া হবে। অর্থমন্ত্রীর এসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দেশের শিল্প খাতের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাই এ পদক্ষেপ দ্রুত নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×