আসন্ন উপজেলা নির্বাচন

অংশগ্রহণমূলক হতে হবে

  সম্পাদকীয় ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮-এর ১৭(১) ধারা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, পরিষদের প্রথম বৈঠক থেকে মেয়াদ শুরু হয়। এ হিসাবে আগামী মার্চই হচ্ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের উপযুক্ত সময়। গতবারের মতো এবারও কয়েক ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে। তবে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট এই নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দলের ভেতর চলছে নানা আলোচনা। জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মধ্যে রয়েছে মতপার্থক্য। একটি পক্ষ নির্বাচনের পক্ষে, অন্যটি বিপক্ষে।

উপজেলা পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার। বস্তুত গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে উপজেলা পরিষদই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। উপজেলা পরিষদের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয় বলে রাজনৈতিক দলগুলো এতে অংশ নিয়ে থাকে। আমরা মনে করি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও সেভাবে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। এটা ঠিক, সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রশ্নে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের অসন্তোষ রয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব মনে করছে না নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। তারা এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াই করবে বলেও জানা গেছে।

সংসদ নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের অংশ না নেয়ার কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। আমরা মনে করি, ঐক্যফ্রন্টের উচিত হবে এ নির্বাচনে অংশ নেয়া। সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে ঐক্যফ্রন্টের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অনেকে হতাশ হয়েছেন। তাদের এই হতাশা কাটানো এবং দলগুলোকে সুসংগঠিত করার প্রশ্নে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়াই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।

ইসি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কথা হচ্ছে, এই প্রস্তুতিই শেষ কথা নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ নির্বাচনের প্রশ্নে আস্থায় নিয়ে আসাটাই মূল কথা। সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ইসির বিরুদ্ধে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। শুধু বিরোধী দল নয়, বস্তুত দেশবাসীর একটি বড় অংশও মনে করছে, নির্বাচন যেভাবে হওয়া উচিত ছিল সেভাবে হয়নি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যে অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, সে ব্যাপারে তাদের সন্দিহান হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে ইসির দায়িত্ব হবে নির্বাচনের আগে এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়া, যাতে করে ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। ইসির জন্য এ নির্বাচনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×