ফিলিপাইন আদালতের রায়: দেশেও রিজার্ভ চুরির ঘটনার বিচার হোক

  যুগান্তর ডেস্ক    ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ম্যানিলার রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি)

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির দায়ে ম্যানিলার রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দিগুইতাকে ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফিলিপাইনের আদালত।

একইসঙ্গে তাকে জরিমানা করা হয়েছে ১০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। মানি লন্ডারিংয়ের ৮টি অভিযোগের সবক’টিতেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

লক্ষণীয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফিলিপাইন সরকার অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে জেল-জরিমানার মুখোমুখি করলেও আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া অর্থের সিংহভাগ।

তবে রিজার্ভের বাদবাকি অর্থ ফেরত পেতে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করবে বলে জানা গেছে।

প্রায় তিন বছর আগে, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমসের নিউইয়র্ক শাখায় থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এ অর্থ চুরি করা হয়।

এর মধ্যে ২ কোটি ডলার যায় শ্রীলংকার একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে। ওই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক দু’দিনের মধ্যেই ফেরত আনতে সক্ষম হয়। ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকে যায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেশে ফেরত এলেও বাকি ৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এখনও ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।

বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির ঘটনার ৪০ দিন পর ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যুগ্ম পরিচালক যোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করলে তদন্তে নামে সিআইডি। তদন্তে রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি মোট ৫২ জনকে চিহ্নিত করা হয়, যাদের মধ্যে ১৬ জন বাংলাদেশ ব্যাংকের, তিনজন একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা আর বাকি ৩৩ জন বিদেশি।

দুঃখজনক হল, রিজার্ভ চুরির তিন বছর পূর্ণ হতে চললেও অর্থ ফেরত আনা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের অধিকাংশ সিদ্ধান্তই আলোর মুখ দেখেনি। পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির অধিকাংশ সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়নি। অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্তগুলো ইতিবাচক ছিল। তাহলে কেন সেগুলো এতদিনেও বাস্তবায়ন করা হয়নি- এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

রিজার্ভ চুরির ঘটনা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। চাইলেও আমরা এর বাইরে থাকতে পারব না। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ভালো দিকের পাশাপাশি অনেক মন্দ দিকও রয়েছে। মন্দ দিকগুলো মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা জরুরি।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ পাচারের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ চুরি যাওয়া বাদবাকি অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×