আসকের প্রতিবেদন: মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আইন ও সালিশ কেন্দ্র

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ২০১৮ সালে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।

আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগতির ধারা ২০১৮ সালে অব্যাহত থাকলেও বিগত বছরগুলোর মতো এ সময়ে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল চরম উদ্বেগজনক।

নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে সংস্থাটি হিসাব দিয়েছে, এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৪৬৬ জন, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আসকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের অধিকারের ক্ষেত্রেও গত বছরের চিত্র ছিল হতাশাজনক।

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিস্থিতি, শ্রমিকের মৃত্যু ইত্যাদি ক্ষেত্রেও অগ্রগতি না হয়ে বরং অবনতি হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেছে আসক।

২০১৮ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আসকের মূল্যায়ন আমলে নেয়ার যোগ্য। সংস্থাটি দীর্ঘদিন থেকে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরছে।

আসকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে গত বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড একটি বহুল আলোচিত বিষয়।

অপরাধ দমনের প্রশ্নে এরূপ হত্যাকাণ্ড অপরিহার্য কিনা, তা নিয়ে সমাজে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, আমাদের বিচারব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পদ্ধতিটি বেছে নেয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যদি সংঘটিত অপরাধের বিচার অনুষ্ঠান সম্ভব হতো, তাহলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের প্রয়োজন পড়ত না।

মানতেই হবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও ২০১৮ সালের পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ব্যাপক সমালোচনার মুখেও বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে এ বছরেই।

আইনটিতে গণমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করতে পারে এমন সাতটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। আসকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বছরটি ছিল সাংবাদিকদের জন্য নিপীড়নমূলক। এ সময়ে তিনজন সাংবাদিক শিকার হয়েছেন হত্যাকাণ্ডের।

দেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার গত ১০ বছর ধরে ক্ষমতাসীন সরকারেরই ধারাবাহিকতা। এ সময়ে দেশে প্রভূত উন্নতি হয়েছে, দেশবাসীর জীবনমানের সূচকও বেড়েছে। কিন্তু এই উন্নয়নের সমান্তরালে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে অবনতি হয়েছে। অথচ অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো উন্নত মানবাধিকার পরিস্থিতি জাতির জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা তাই চাইব, নতুন সরকার অগ্রাধিকারের তালিকায় মানবাধিকারের বিষয়টিও যুক্ত করে সেভাবে কাজ করবে। মনে রাখা দরকার, উন্নয়ন কখনও মানবাধিকারের বিকল্প হতে পারে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×