হাজারও বীণার সুর

  আহমেদ সুমন ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ২০০১ সাল থেকে এ দিনটিকে কর্তৃপক্ষ ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। শুরুতেই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস খানিকটা হলেও তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করছি।

আমরা জানি, ইংরেজ শাসনামলেই পূর্ববাংলায় একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। ১৯২১ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, কৃষি, প্রকৌশল ও চট্টগ্রাম বিশ্বিবিদ্যালয় স্থাপিত হলেও পূর্ব পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার কাছাকাছি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় গাজীপুর জেলার সালনায়।

কিন্তু নানা কারণে শেষ পর্যন্ত ১৯৬৭ সালে ঢাকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সাভার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন স্থান নির্বাচন করা হয়। সাভারের ওপর দিয়ে চলে গেছে এশিয়ান হাইওয়ে। এ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে নির্ধারণ করা হয় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয় ড. সুরত আলী খানকে।

১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখে ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন বিশিষ্ট রসায়নবিদ অধ্যাপক ড. মফিজউদ্দিন আহমদ।

১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ উদ্বোধন করেন। তবে এর আগেই ৪ জানুয়ারি অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগে ক্লাস শুরু হয়। প্রথম ব্যাচে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫০।

স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট পাস হয়। এ অ্যাক্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রাখা হয় ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়’।

৬৯৭.৫৬ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫টি অনুষদের অধীনে ৩৩টি বিভাগ চালু আছে। এছাড়া রয়েছে ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি), ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ-জেইউ), বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং ও ভাষা শিক্ষা কেন্দ । আবাসিক হল ১৬টি। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার।

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও ‘অভিনবত্ব’ অনেক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তবুদ্ধি ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ঋদ্ধতায় দেশ-জাতি সমৃদ্ধ হয়েছে। এখানে গড়ে তোলা হয়েছে প্রাকৃতিক জলাধার এবং অতিথি পাখির অভয়ারণ্য। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখিমেলা ও প্রজাপতি মেলা দেশজুড়ে সমাদৃত।

বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রজাপতি পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান রাখছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। হাইকোর্টের নিদের্শনার আলোকে দেশে প্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই ‘যৌন নিপীড়নবিরোধী অভিযোগ সেল’ গঠিত হয়েছে।

নতুনত্বের আরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে যোগদানের মধ্য দিয়ে। তিনি দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম নারী উপাচার্য। এছাড়া এখানে বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র’ নির্মাণের মাধ্যমে বিজ্ঞান চর্চার অনন্য নজির স্থাপন করা হয়েছে।

এ গবেষণা কেন্দ্রে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণাগারে কীটপতঙ্গের জীনের বারকোডিং করা হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুনত্ব ও অভিনবত্বের আরও অনেক দিক গণমাধ্যমে তেমন একটা আসে না। এতদসত্ত্বেও আমরা বলতে পারি, এর মাঝেও হাজারও বীণার সুর বাজে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আহমেদ সুমন : সাবেক শিক্ষার্থী, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×