প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হোক

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ফাহিম আহমেদ

ছবি: সংগৃহীত

সঠিক পরিচর্যা এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এর ফলে জাতীয় উন্নয়নে তারাও অবদান রাখতে পারবে। প্রতিবন্ধী শিশুরা পিছিয়ে পড়ে মূলত যথাযথ চিকিৎসার অভাবে।

২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং একই বছর করা হয়েছে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটি সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন। এ দুটি আইনে প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

কিন্তু প্রতিবন্ধী শিশুদের ওষুধ, সহায়ক উপকরণ, থেরাপি ইত্যাদি সেবা উপজেলা পর্যায়ে নেই এবং জেলা পর্যায়েও অপর্যাপ্ত। প্রাথমিকভাবে শনাক্ত প্রতিবন্ধীদের অনেকেরই সহায়ক উপকরণ প্রয়োজন। সহায়ক উপকরণের মধ্যে বিশেষ ধরনের হুইলচেয়ার, স্পেশাল সিটিং চেয়ার উল্লেখযোগ্য।

এগুলো গ্রামপর্যায়ে পাওয়া যায় না। উপকরণ কিনতে শহরে আসতে হয়, এতে যাতায়াত খরচ অনেক বেশি হয়।

প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন ২০১৩ অনুসারে প্রতিবন্ধিতা শণাক্তকরণ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। শতকরা ৪৯ ভাগ প্রতিবন্ধিতা কমিয়ে আনা সম্ভব, যদি প্রারম্ভিক শণাক্তকরণ এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা যায়। প্রতিবন্ধীদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রথমত, প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি কর্মকৌশল ঠিক করা দরকার। দ্বিতীয়ত, সবার জন্য সহায়ক উপকরণ জেলা পর্যায়ে প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবন্ধীদের ধরন অনুযায়ী আলাদা করে সেবা প্রদান করতে হবে। এজন্য হাসপাতালে আলাদা ইউনিট বা ওয়ার্ড থাকা আবশ্যক। প্রতিবন্ধীদের প্যাথলজি টেস্টগুলো বিনামূল্যে করা উচিত, সম্ভব না হলে স্বল্পমূল্যে করে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিমধ্যে ৫০টি উপজেলায় ইশারা ভাষার প্রশিক্ষণ হয়েছে এবং আরও কিছু উপজেলায় এরূপ প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবন্ধীদের জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে একীভূত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া জরুরি। চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট ও সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলের সমন্বয়ে চিকিৎসা দিতে পারলে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সহজেই সমাধান সম্ভব।

অনেকে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছে; কিন্তু কাজের সমন্বয় নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ইউনিসেফের একজন হেলথ অফিসার জেনেরিকভাবে প্রতিবন্ধিতা দূর করতে তিনটি লক্ষ্যের কথা বলেছেন। প্রথমত, প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতে শামিল করা; দ্বিতীয়ত, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং তৃতীয়ত, প্রতিবন্ধীদের সমান অধিকার প্রদান করা। বর্তমানে ইউনিসেফ থেকে দেশের ১৬টি জেলায় একটি করে এনজিও কাজ করছে।

চিকিৎসক ও প্রতিবন্ধী পরিচর্যাকারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। পরিচর্যাকারীদের মানসিকতার পরিবর্তন এবং মানবিক হওয়ার বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে।

সপ্তাহে কিংবা মাসে অন্তত একবার প্রতিবন্ধীদের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা উচিত। এক্ষেত্রে টেলিমেডিসিন সেবার সহায়তা নেয়া যেতে পারে। প্রতিবন্ধীদের শারীরিক বিষয়ের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে।

প্রতিবন্ধী শণাক্তকরণের পর তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে হবে। যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

ফাহিম আহমেদ : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়