স্বপ্নভঙ্গ মানেই জীবনের শেষ নয়

  ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বপ্নভঙ্গ মানেই জীবনের শেষ নয়

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে দেখা যায়, ২০১৮ সালে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যার মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই নয়জন।

২০১৭ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজনসহ সারা দেশে ১১ জন এবং ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজনসহ সারা দেশে নয়জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এ তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সাইফুর রহমান প্রতীক। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের এই মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন কোর্সে নম্বর কম দেয়ায় ফলাফল খারাপ হয় প্রতীকের এবং ভেঙে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার তার স্বপ্ন।

আর এটা মেনে নিতে না পেরেই আত্মহত্যা করেন তিনি। এ যেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবাশীষ মণ্ডলের আত্মহত্যার ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সব যোগ্যতা পূরণ করেও ঘুষ না দেয়ায় শিক্ষক হতে না পেরে ২০১৮ সালের মে মাসে আত্মহত্যা করেন এই শিক্ষার্থী।

একই বছরের সেপ্টেম্বরে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করার দু’বছর পরও চাকরি না পাওয়ায় আত্মহত্যা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈকত রঞ্জন মণ্ডল। এ ছাড়াও একই বছর ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তরুণ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বেছে নেন আত্মহত্যার পথ।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে আত্মহত্যার কারণ ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশা। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশাগ্রস্ত। কিন্তু কেন অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে এসে অসীম সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়েও একজন শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে যাচ্ছে? এর সমাধান কী? একজন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়াটাকেই জীবনের সবকিছু ভাবছেন? তার এই চিন্তাভাবনার পেছনে কি আমাদের সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা দায়ী নয়?

অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীরা যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় জ্ঞানার্জনের জন্য, গবেষণার জন্য, সেখানে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় একটা ভালো চাকরির জন্য। কিন্তু আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম, চাইলেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে চাকরির নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা যদি একটি গবেষণানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে পারি, তরুণদের মাঝে যদি ভালো প্রতিষ্ঠানের কর্মী হওয়ার পরিবর্তে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ তৈরি করতে পারি, তাহলে হয়তো কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের হতাশা দূর করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কের মানোন্নয়ন করতে হবে। এতে কোনো শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে শিক্ষকরা সহজেই তা বুঝতে পারবেন এবং তার হতাশা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া সহজ হবে। কোনো শিক্ষক যেন কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গের কারণ না হন, শিক্ষকরা যেন হন শিক্ষার্থীদের সব থেকে বড় আশ্রয়, স্বপ্ন গড়ার কারিগর। শিক্ষকদেরকেই শিক্ষার্থীদের অনুধাবন করাতে হবে যে, জীবন সম্ভাবনাময়, স্বপ্নভঙ্গ মানেই জীবনের শেষ নয়, বরং তার সামনে রয়েছে হাজারো সম্ভাবনা। সর্বোপরি আমাদের একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে- জীবনের জন্য স্বপ্ন, স্বপ্নের জন্য জীবন নয়।

ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া : শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×