দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স যেন কথার কথা না হয়

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সেখানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সুশাসন খুবই জরুরি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি কর্মকর্তাদের। বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, ফলে এখন দুর্নীতির প্রয়োজন নেই।

সরকার পরিচালনার মূল জায়গা জনপ্রশাসন উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দুর্নীতি করলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। জঙ্গিবাদ দমনের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছেন, তাকে সাধুবাদ জানাতেই হবে। বস্তুত এই মুহূর্তে বাংলাদেশ যেখানে অবস্থান করছে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা গেলে অতি দ্রুত সেই অবস্থান আরও অনেক উপরে উঠে যাবে, সন্দেহ নেই।

বলতে গেলে দুর্নীতি এখন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সমস্যা। সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে অবশ্যই। বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বিকাশমান, আকারের দিক থেকে বিশ্বে দেশের অবস্থান ৪১তম। মাথাপিছু আয় বাড়ায় দেশ ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাংকের বিবেচনায় নিু-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

অর্থনীতির বিকাশের এই যে ধারা, তা অব্যাহত রাখতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলতে হবে অবশ্যই। নিকট অতীতে দুর্নীতির বিশ্ব সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল লজ্জাজনক। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হবে দ্রুত।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হলে এক সময় সব লজ্জা কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশ উন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে বৈকি। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে গিয়ে যেসব কথা বলেছেন, তা শুধু কথার কথা হয়ে থাকবে না, কথাগুলোকে আক্ষরিক অর্থেই মেনে চলতে হবে।

আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে ভালো ভালো কথা শোনা যায়। কিন্তু সময়ের তালে তালে সেসব সুবচন নির্বাসনে যাওয়া শুরু করে। এবার যেন তেমনটা না হয়। মহাজোট সরকার যে গত ১০ বছরে দেশের প্রভূত উন্নতি করেছে, এ কথা সরকারের চরম সমালোচকও অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু এটাও সত্য, গত ১০ বছরে দুর্নীতির প্রশ্নে সরকারের ভাবমূর্তি ভালো নয়।

এবারের সরকার যদি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে সরকারের জন্য সেটা হবে সোনায় সোহাগা। প্রধানমন্ত্রী নিজেও হয়তো উপলব্ধি করেছেন এ কথা। আর তাই নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সূচনালগ্নেই তিনি দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

আমরা চাইব, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণের দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার আকাক্সক্ষার প্রতি সম্মান দেখাবেন এবং সেভাবেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরাও মনে করি, দুর্নীতির ব্যাপারে কোনো প্রকার শৈথিল্য নয়, এ ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থেই নিতে হবে জিরো টলারেন্স নীতি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×