চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুর্নীতি

অবিলম্বে মূলোৎপাটন করা হোক

  যুগান্তর ডেস্ক    ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বেপরোয়া দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের শিল্প খাত, বিশেষত উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা। এ দুর্নীতি-অনিয়ম রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করি আমরা।

তাই অবিলম্বে এদিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুর্নীতি হচ্ছে নানা প্রক্রিয়ায়। এর একটি হল ডাটাবেজ পরীক্ষার নামে ইচ্ছামতো আমদানি পণ্যের উচ্চ শুল্ক আদায়। এ ক্ষেত্রে মানা হয় না কোনো নিয়মকানুন। যাচাই করা হয় না আমদানি পণ্যের বাজারমূল্য।

অথচ অনলাইনে খুব সহজেই আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম দেখে নেয়া যায়। বস্তুত বিদ্যমান শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতিকে জিইয়ে রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এর ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন আমদানিকারকরা।

হয়রানির অপর একটি ধরন হল পণ্য খালাসে বিলম্বসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে পণ্যভর্তি কনটেইনারের ওপর ডেমারেজ চার্জ আরোপ বা বৃদ্ধি। দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের স্বার্থে এ প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি। বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হতে হবে সহজ ও যৌক্তিক শুল্কায়নের মধ্য দিয়ে এবং তা দ্রুততম সময়ে।

এজন্য বিদ্যমান শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালার সংশোধন ও সংস্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। তবে সবার আগে প্রয়োজন দুর্নীতির মূলোৎপাটন। কেননা বিধিমালা সংশোধন করা হলেও দুর্নীতির সুবিধাভোগীদের অপতৎপরতা বন্ধ হবে না।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও নানা কৌশলে আমদানিকারদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বস্তুত এই শুল্ক স্টেশনে পোস্টিং পেয়েই অনেকে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার নেশায় মেতে ওঠে। ফলে সেখানে দুর্নীতি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই।

বছর দুই আগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বিভিন্ন শাখা সরেজমিন পরিদর্শন করে দুদক কমিশনার (তদন্ত) বলেছিলেন, কাস্টম হাউসের বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করে দেখা গেছে এ সংস্থার সব শাখাতেই নিয়মিত অনিয়ম হচ্ছে, শুল্কায়নের আটটি ধাপের প্রতিটিতেই বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে।

গত দু’বছরেও এ পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। সম্প্রতি কাস্টম হাউসের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা ঘুষের ছয় লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন দুদকের অভিযান টিমের হাতে। এ সংস্থার দুর্নীতি রোধে দুদকের এমন অভিযান অব্যাহত থাকা উচিত বলে মনে করি আমরা।

দুর্নীতিবাজদের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি মেনে নেয়া যায় না। আমরা আশা করব, সরকার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেবে। প্রধানমন্ত্রী ‘ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যবান্ধব’ নীতি বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। তিনি জিডিপি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণাও দিয়েছেন। এ অবস্থায় সরকারের উচিত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে দেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। এ সংস্থার দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হোক অবিলম্বে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×