ফের ভোটের কর্মযজ্ঞ: সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফের ভোটের কর্মযজ্ঞ: সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে
ফের ভোটের কর্মযজ্ঞ: সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই বিভিন্ন নির্বাচনের তফসিল এবং উপজেলা নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে খালি হওয়া কিশোরগঞ্জ-১ আসন, মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে খালি হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ- দুই সিটিতে যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

এছাড়া একইদিনে পটুয়াখালী পৌরসভা, বরগুনার আমতলী পৌরসভা, ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন এবং কয়েকটি পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও কিছু জেলা পরিষদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানেই শেষ নয়, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল এবং পাঁচ পর্বের উপজেলা নির্বাচনের প্রথম পর্বের নানা আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে ইসি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে ইসির নির্লিপ্ততা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি গত বছর ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র এবং দুই সিটির ৩৬টি ওয়ার্ড নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেও শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করতে না পারায় ইসির দক্ষতা ও আইনি দিক বিবেচনার সক্ষমতা নিয়ে নানা সমালোচনা দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত বছর তফসিল ঘোষণার পর আদালতের আদেশে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

এ বছরও তেমন সমস্যা তৈরির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। অবশ্য ইসি সচিব বলেছেন, আইনি কোনো সমস্যা তৈরি হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা মনে করি, তেমন আশঙ্কা থাকলে আগেই সবকিছুর সুরাহা করে অগ্রসর হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

কারণ একবার তফসিল ঘোষণার পর স্থগিতাদেশ এবং পুনরায় তফসিলের পর আবারও স্থগিতাদেশ এলে তাতে প্রার্থী, ভোটার, এমনকি সাধারণ মানুষের কাছে ভালো কোনো বার্তা পৌঁছাবে না। এছাড়া এমনটি হলে নিজেদের পছন্দের নির্বাচিত প্রার্থী কর্তৃক জনগণের সেবাপ্রাপ্তির অধিকারও বিলম্বের মুখে পড়বে, যা কারও কাম্য নয়।

নির্বাচন আয়োজন ইসির রুটিন কাজ এবং সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্ব। ভোটের মতো বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সব সময়ই চ্যালেঞ্জের বিষয়। এ চ্যালেঞ্জ সুন্দর ও ইতিবাচকভাবে মোকাবেলা করাই ইসির প্রধান দায়িত্ব।

অতীতের মতো ভুলত্রুটি যেন বিভিন্ন পর্যায়ের আসন্ন নির্বাচনে না হয়, ভোটাররা যেন সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং প্রার্থীরা যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পান, তা নিশ্চিত করতে হবে ইসিকেই। অবশ্য একা ইসির পক্ষে সবকিছু অবাধ ও নিরপেক্ষ করা সম্ভব নয় বিধায় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, তাদের প্রার্থী, এমনকি ভোটারদেরও গণতান্ত্রিক মানসিকতা লালন করতে হবে।

অন্যথায় অবাধ-সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অধরাই থেকে যাবে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের দেশে প্রায় সবার মধ্যেই যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়া বা নির্বাচিত হওয়ার মানসিকতা বিদ্যমান। মুখে গণতন্ত্রের চেতনার কথা বলা হলেও অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তাতে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়টি একেবারেই অনুপস্থিত। আসন্ন নির্বাচনগুলোয় সবার মধ্যে সত্যিকারের গণতন্ত্রচর্চা দেখা যাবে, এটাই কাম্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×