এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় হযবরল

এমনটি যেন আর না ঘটে

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় হযবরল
এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে প্রশ্নপত্রে এমন ত্রুটি দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

শনিবার সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। অন্যান্য বছরের মতো এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তেমন জোরালো অভিযোগ না উঠলেও অনিয়মিতদের প্রশ্নে নিয়মিতদের পরীক্ষা, কেন্দ্রে কম প্রশ্ন পাঠানোর কারণে প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে পরীক্ষা নেয়া, ট্রেজারিতে প্রশ্নপত্র রেখে পাশের কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষা নেয়া, এমনকি নির্ধারিত সময়ের পরে পরীক্ষা শুরু করার মতো নানা অনিয়মের কারণে প্রথম দিনের পরীক্ষায় এক ধরনের হযবরল পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শুধু তাই নয়, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে এবং এমনটি হওয়া স্বাভাবিকও। অবশ্য সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, এসব কারণে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সত্যিকার অর্থেই শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের ক্ষতির শিকার না হয় এবং বাকি পরীক্ষাগুলোয় যাতে এমন অনিয়ম-অরাজকতা তৈরি না হয় সংশ্লিষ্টদের তা নিশ্চিত করতে হবে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিগত কয়েক বছর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সে ফাঁস প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেয়া অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। এবার অবশ্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ জোরালোভাবে আসেনি; যদিও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিটের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত প্রশ্ন পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া ওই প্রশ্নের বহু নির্বাচনী অংশের সঙ্গে আসল প্রশ্নের মিল পাওয়া না গেলেও সৃজনশীল প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে। এ থেকে স্পষ্ট যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের হোতারা একেবারে দমে যায়নি এবং মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে। অবশ্য নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন খুব বেশি দিন হয়নি। আমরা আশা করব, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সচেষ্ট হবেন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অভিশাপ থেকে জাতি স্থায়ীভাবে মুক্তি পাবে।

এসএসসি-সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষায় ধর্মীয় স্বাধীনতার নজিরবিহীন একটি উদাহরণ দেশে তৈরি হয়েছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের ধর্মীয় কারণে শনিবার পড়ালেখা না করার বাধ্যবাধকতাকে সামনে রেখে তাদের পরীক্ষা রাতে নেয়া হয়েছে। ইতিবাচক এবং সংবিধানের আলোকে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও ধর্মীয় কারণে বৈষম্যের শিকার না হওয়ার দৃষ্টান্ত বলতে হবে একে।

আশার কথা, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে মন্ত্রণালয় ভালো ভূমিকা নিয়েছে। আন্তরিকতার সঙ্গে সবাই নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করলে ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনাসহ জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ছাড়াও শিক্ষা খাতের অন্যান্য অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা অসম্ভব হবে না। ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়াসহ যেসব সমস্যা প্রথম দিনের পরীক্ষায় দেখা গেছে, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোয় সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি যাদের অবহেলার কারণে সমস্যাগুলো হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও নিতে হবে।

সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে, কারণ আজকের শিক্ষার্থী আগামী দিনে নানা ক্ষেত্রে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গলার কাঁটা দূর করার পাশাপাশি শিক্ষা খাতের সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে সবাই আশাবাদী।

ঘটনাপ্রবাহ : এসএসসি পরীক্ষা-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×