কর্ণফুলীতে উচ্ছেদ অভিযান

কোনোরকম আপস কাম্য নয়

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কর্ণফুলীতে উচ্ছেদ অভিযান
কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকল্পে আজ (সোমবার) থেকে অভিযান শুরু হওয়ার কথা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। ২০১০ সালে কর্ণফুলী নদীর গতিপথ স্বাভাবিক রাখতে নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখল, ভরাট ও নদীতে যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই কর্ণফুলী নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও ভূমি জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এ লক্ষ্যে গঠিত ১৬ সদস্যের কমিটি ২০১৬ সালের ১৮ জুন আরএস ও বিএস রেকর্ড অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর বর্তমান অবস্থান ও দখলদারদের চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করে। এরপর ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট কর্ণফুলী নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরাতে ৯০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে আদেশ প্রদান করেন।

জানা গেছে, অর্থ সংকটসহ নানা জটিলতায় এতদিন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। সম্পতি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তির পর এ উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে জেলা প্রশাসন। আশার কথা, ভূমি মন্ত্রণালয় শুধু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করেই দায়িত্ব শেষ করেনি; সরকারের নতুন ভূমিমন্ত্রী দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘দখলদার যত প্রভাবশালীই হোক, কর্ণফুলীর তীর থেকে সরতে হবে।’ অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর এ সাহসী উচ্চারণ আমাদের আশাবাদী করে তোলে বৈকি।

কর্ণফুলী নদীর দুই তীরের অবৈধ দখলদাররা নিঃসন্দেহে প্রভাবশালী। তবে তারা যে সরকারের চেয়েও ক্ষমতাধর নয়, একথা ভূমিমন্ত্রী সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। কর্ণফুলী নদীর দুই তীর সম্পূর্ণ দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রীর এ দৃঢ়তা বজায় থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা। মনে রাখতে হবে- ‘কর্ণফুলী বাঁচলে চট্টগ্রাম বাঁচবে।’

কাজেই দখলদার উচ্ছেদে কোনোরকম শৈথিল্য বা আপস কাম্য নয়। তবে শুধু কর্ণফুলী নয়, সারা দেশের নদ-নদীগুলো দখল ও দূষণমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সরকার অবশ্য এরই মধ্যে রাজধানীর বুড়িগঙ্গার দুই প্রান্তে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। উচ্ছেদের পর ফের দখল ঠেকাতে নদীর দুই তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও বনায়নসহ অন্যান্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কর্ণফুলীর ক্ষেত্রেও অনুরূপ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কিনা, ভেবে দেখা প্রয়োজন।

পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে কর্ণফুলীসহ দেশের অন্যান্য নদ-নদী দখল ও দূষণ রোধে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে; এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×