পুলিশ সপ্তাহ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটুক

  সম্পাদকীয় ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশ সপ্তাহ
ফাইল ফটো

‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৯’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণে যেসব কথা বলেছেন, তা প্রণিধানযোগ্য। তিনি পুলিশকে আরও জনবান্ধব হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, পুলিশের ওপর জনগণ যেন আস্থা রাখতে পারে সে লক্ষ্যে তাদের কাজ করতে হবে।

সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘মানুষ হয়রানির শিকার হলে, বিপদে পড়লে তাদের সহযোগিতা করুন। সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা আপনাদের কর্তব্য।’ বস্তুত এটাই হওয়া উচিত পুলিশের প্রকৃত ভূমিকা। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ দেশে পুলিশ বাহিনী নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও অনেক সময় পুলিশ নিজেই জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।

যেখানে বিপদে-আপদে মানুষের সবচেয়ে বেশি নির্ভর করার কথা পুলিশের ওপর, সেখানে নিজেদের আচার-ব্যবহার ও কার্যকলাপের মাধ্যমে পুলিশ হয়ে পড়ে জনবিচ্ছিন্ন। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি বৈকি।

প্রকৃতপক্ষে পুলিশের ভূমিকা হওয়া উচিত আইনের রক্ষক তথা জনগণের সেবকের। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। এর অন্যতম কারণ, আমাদের পুলিশ বাহিনী ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের উত্তরাধিকারই বহন করে চলেছে। ব্

রিটিশ শাসকরা ওই নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন করেছিল পরাধীন জনগণের স্বাধীনতার স্পৃহাকে দমিয়ে রেখে নির্বিঘ্নে শাসনকাজ পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আজকের দিনের বাস্তবতা ভিন্ন, দেশ আজ স্বাধীন।

তাই পুলিশকে পুরনো চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা স্বীকার করি, জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে প্রাণও দিতে হয়েছে। জঙ্গিবাদ দমন ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসংক্রান্ত অন্যান্য ক্ষেত্রেও পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে পুলিশকে আরও জনবান্ধব হতে হবে।

এ ব্যাপারে সরকারেরও করণীয় রয়েছে। পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পেতে এ বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। দেখা যায়, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে, বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের কাজে ব্যবহার করে। পুলিশের নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ইত্যাদি প্রশাসনিক কাজেও ব্যাপক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতারা নানাভাবে প্রভাব খাটান।

এতে অনেক দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাও বিশেষ কোনো রাজনৈতিক নেতার আস্থাভাজন না হওয়ায় বা তাদের কথামতো কাজ না করায় হয়রানির শিকার হন। বস্তুত পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যত অভিযোগ উঠে থাকে, সেসবের বেশিরভাগই সংঘটিত হয় পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ফলে। এর অবসানই কাম্য।

অস্বীকার করা যাবে না, পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতা আছে। পর্যাপ্ত যানবাহন নেই তাদের। অনেক ক্ষেত্রে লোকবলেরও সংকট রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের আবাসন সমস্যা প্রকট। এসব সমস্যার সমাধানের প্রয়াস নিয়েছে সরকার।

আমরা চাই, পুলিশ যথার্থই জনগণের বন্ধু হয়ে উঠুক। সরকারের সদিচ্ছা এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতায়ই তা সম্ভব হতে পারে। পুলিশ সপ্তাহে এ বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×