কেমন ডাকসু চাই

  আনিসুর রহমান ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কেমন ডাকসু চাই

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে বললে ভুল বলা হবে; বলতে হবে শুরু করানো হয়েছে। সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থী ওয়ালিদ আশরাফকে ভুলে যাওয়ার কথা নয়।

সেই ওয়ালিদ আশরাফ, যিনি ডাকসু নির্বাচনের জন্য অনশনে বসেছিলেন। তারও আগে একদল শিক্ষার্থী ডাকসু নির্বাচন চেয়ে আদালতে রিট করেছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ডাকসু নির্বাচন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দেন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে ডাকসু নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে।

আমরা, সাধারণ শিক্ষার্থীরা আসলে ভুলেই গিয়েছিলাম ডাকসু নির্বাচন নামে কিছু একটা আছে! বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বেমালুম চেপে গিয়েছিল নির্বাচনের বিষয়টা। যাক, অবশেষে ডাকসু নির্বাচন হয়তো আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। হয়তো বললাম এজন্য যে, এর আগেও বেশ কয়েকবার ডাকসু নির্বাচন শেষ মুহূর্তে এসে হোঁচট খেয়েছিল।

আমাদের মতো তরুণরা ডাকসুর রাজনৈতিক ইতিহাস খুঁজতে গেলে আমাদের জ্ঞানের পরিধিতে তা কুলাবে না।

তার চেয়ে বরং এই কাজটা এ দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের জন্যই তোলা থাক। তবু এতটুকু না বললে বোধকরি কার্পণ্য হয়ে যায় যে, বাংলাদেশের সোনালি অতীতের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে ডাকসু।

আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুর পরিচয় ছাপিয়ে ডাকসু হয়ে উঠেছিল দেশের দ্বিতীয় সংসদ। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ- সবখানেই ডাকসুর ভূমিকা ছিল বিরাট।

ইতিমধ্যে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচনের আমেজ বিরাজ করছে। প্রত্যেক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্র নবায়ন করা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রার্থিতা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা চলছে। এতদিন পর নির্বাচন হচ্ছে।

শুধু কি নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনায় ডাকসু মুখর থাকবে? না, আমরা চাই আমাদের সাধারণ ছাত্রদের অধিকারটা পাদপ্রদীপের আলোয় থাকুক। বহু বছর ধরে ছাত্রদের সম্মিলিত অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম নেই। ভবিষ্যৎ ছাত্র রাজনীতিও হুমকির মুখে।

এ অবস্থায় ডাকসুই কেবল আমাদের আশার পালে হাওয়া লাগাতে পারে। ডাকসুর ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা আশান্বিতও হতে পারি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সমস্যা থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, সংস্কৃতিচর্চা, সান্ধ্যকালীন শিক্ষার নামে শিক্ষা-বাণিজ্য, ক্যান্টিনের খাবারের মান, পরিবহন সমস্যা- সবকিছুই দাঁড়িয়ে আছে প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স একশ’ বছর হতে চলল। বিশ্ববিদ্যালয় যেন দিন দিন বার্ধক্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অথচ প্রতিষ্ঠার পর প্রথমদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল সমীহ জাগানিয়া।

শিক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান ফিকে হতে চলেছে। গবেষণা খাতে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা তথৈবচ। বিশ্বমঞ্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ক্রমেই নিচের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

তবু এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব সমস্যার সমাধানে ডাকসুকে আশ্রয়স্থল হিসেবে চিন্তা করে। এই যে এত বছর পর ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাঁকডাক হচ্ছে- এটা যদি আলোর মুখ না দেখে, স্বভাবতই আমরা মুষড়ে পড়ব।

আনিসুর রহমান : শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×