শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা: অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা: অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা: অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। প্রতীকী ছবি

দেশে অন্তত ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইনে পীড়নের শিকার- জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক জরিপে উঠে এসেছে বিষয়টি। ‘বাংলাদেশের শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা’ শীর্ষক জরিপটিতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ২৮১ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়- যাদের ৩২ শতাংশ নানাভাবে সহিংসতা, উৎপীড়ন ও ভয়ভীতির শিকার হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় হুমকি পর্নোগ্রাফি।

বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একমত হয়ে বলা যায়, কেবল বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই শিশু পর্নোগ্রাফি মানবসভ্যতার জন্য, বিশেষত শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠার জন্য হুমকিস্বরূপ। কাজেই সরকারের উচিত এ থেকে শিশুদের রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া। তবে কেবল সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই হবে না, অভিভাবকদেরও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কারণ জরিপে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ২৫ শতাংশ শিশু ১১ বছর বয়সেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এ বয়সের শিশুদের ভালোমন্দ পার্থক্য করার বোধ তৈরি না হওয়ার কারণে তারা যে কোনো ধরনের লোভে পড়ে নিজেদের হুমকির মুখে ফেলতে পারে, এমনকি নিজের অজান্তে অভিভাবক ও আত্মীয়স্বজনদের জন্যও তৈরি করতে পারে ফাঁদ। এমন নজির বিভিন্ন সময় দেখা গেছে। সুতরাং শিশুদের ডিজিটাল জগতে প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

উদ্বেগের বিষয় হল, অনলাইনে ৭০ শতাংশ শিশুই অপরিচিতদের বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করে এবং ১৪ শতাংশ অপরিচিতদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়ার পরপর দেখা করতেও যায়। এতে করে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গি মতাদর্শের মতো গুরুতর বিষয়েও শিশুদের জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। শিশুরা নানা ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হওয়ার পাশাপাশি অহেতুক জিম্মি হয়ে প্রাণঘাতীমূলক পরিস্থিতিতে পড়ছে অহরহ।

পিতামাতার সঙ্গে শত্রুতার অজুহাত তোলা হচ্ছে তাদের অবুঝ শিশুকে হত্যা করে। এ অবস্থায় শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ও অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। আমরা মনে করি, সরকারের সুরক্ষা নীতিমালা, কঠোর ডিজিটাল ও পর্নোগ্রাফি আইন এবং অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে শিশুদের রক্ষাকবচ হতে। সন্তান জীবনের সবচেয়ে দামি সম্পদ। সে কী করছে- বাস্তব জীবনে ও অনলাইনে কাদের সঙ্গে মিশছে- এসব পর্যবেক্ষণ করা এবং সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেয়ার মাধ্যমেই তাদের জীবন নিরাপদ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×