ঋণ অবলোপনের নীতিমালা: শিথিলকরণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণ অবলোপনের নীতিমালা

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিল করে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো মাত্র ৩ বছর পর মন্দ মানের খেলাপি ঋণ অবলোপন করে ব্যালান্স শিট বা স্থিতিপত্র থেকে বাদ দিতে পারবে।

এ ছাড়া অবলোপন করতে আগের মতো শতভাগ প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) লাগবে না এবং দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ অবলোপনে মামলাও করতে হবে না ইত্যাদি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলকরণ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এর ফলে ব্যাংকগুলোয় দীর্ঘমেয়াদে খেলাপির ঝুঁকি আরও বাড়বে। বস্তুত খেলাপি ঋণ প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংক যে পদ্ধতি বা নীতিমালা প্রয়োগ করতে চাচ্ছে, তা আদতে খেলাপি ঋণ কমানোর কার্যকর কোনো পথ নয়।

এর মাধ্যমে কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণ সাময়িকভাবে কমেছে বলে মনে হলেও বাস্তবে ব্যাংকগুলোর আর্থিক চিত্র ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়বে। প্রভিশন না রেখে অবলোপন করা হলে ব্যাংক ও আমানতকারীরা পড়বে ঝুঁকিতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিল করা সংক্রান্ত সার্কুলারটি এমন এক সময়ে জারি করা হয়েছে, যখন নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী ঋণখেলাপি হওয়াকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি মালয়েশিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, মালয়েশিয়ায় যেসব ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, তাদের নামের তালিকা সরকারিভাবে তৈরি করে বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠানো হয় এবং কেউ দেশত্যাগ করতে চাইলে তাকে আটক করা হয়।

আশার কথা, প্রয়োজনে আইন সংস্কার করে আমাদের এখানেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। লক্ষণীয়, ঋণ অবলোপন সংক্রান্ত সার্কুলারটি যেদিন জারি করা হয়, সেদিনই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে কঠোর আইন প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিরা।

উল্লেখ্য, খেলাপি ঋণ কমাতে এদিন একটি পরামর্শ সভার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিরা প্রয়োজনে ঋণখেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট করার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ঋণখেলাপিরা ব্যাংকের দায় পরিশোধ করবেন না, অথচ বিলাসী জীবনযাপন করবেন, তা যেন না হয়।

এ ছাড়া পরামর্শ সভায় ঋণখেলাপিদের সন্তানদের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ আটকে দেয়াসহ তারা যাতে গাড়ি ও বাড়ি কিনতে না পারেন এমন ব্যবস্থা নেয়ার উপায় নিয়ে ভাবার কথাও বলা হয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা এবং এর মধ্যে মন্দ মানের খেলাপি ছিল ৮২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। দুশ্চিন্তার বিষয় হল, মোট খেলাপি ঋণের ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশই মন্দ মানের। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া।

এ ছাড়া যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রদেয় নতুন ঋণও খেলাপির পাল্লা ভারি করছে। ঋণ যাতে কুঋণে পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে ব্যাংকগুলোর সতর্ক থাকা জরুরি। মিথ্যা তথ্য ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেয়ার পর তা খেলাপিতে পরিণত করার প্রবণতা শুরুতেই রোধ করা গেলে ব্যাংকগুলোর পক্ষে ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে। দুঃখজনক হল, ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি।

ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার প্রবণতা এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে আমাদের সমাজে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় জবাবদিহিতার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলকরণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে- এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×