ফিটনেসবিহীন যানবাহন কবে ফিট হবে?

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফিটনেসবিহীন যানবাহন
ফিটনেসবিহীন যানবাহন। ছবি: সংগৃহীত

এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোটের নির্দেশে বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর এক জরিপ চালিয়েছে।

এ জরিপে দেখা যাচ্ছে, ৩৩ শতাংশ যাত্রীবাহী বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং ৫৬ শতাংশের গতি নিয়ন্ত্রক সিল ঠিক নেই। জরিপের ফলাফল সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি উচ্চ আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি প্রতিরোধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আনফিট বা ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এতে আরও বলা হয়েছে, সমস্যার ব্যাপকতা ও মাত্রা বোঝার জন্য যানবাহনের, বিশেষ করে গণপরিবহনের ওপর বিজ্ঞানভিত্তিক জরিপ পরিচালনা করা খুবই জরুরি। কোনো বিশেষায়িত গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা করা যেতে পারে।

৩৩ শতাংশ যাত্রীবাহী বাসের ফিটনেস এবং ৫৬ শতাংশ বাসের গতি নিয়ন্ত্রক সার্টিফিকেট নেই- এ তথ্য নিঃসন্দেহে দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনার বেহাল চিত্রই ফুটিয়ে তোলে। আমরা এমন সময় পার করছি, যখন প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

সড়ক দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ যানবাহনের ফিটনেসহীনতা। দীর্ঘদিন থেকেই এই ফিটনেসের বিষয়টি গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হলেও কার্যত যে কিছুই হয়নি, তার প্রমাণ খোদ বিআরটিএ’র জরিপ। বিআরটিএ’র মতো একটি প্রতিষ্ঠান থাকতে কীভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করছে, তা এক প্রশ্ন বটে।

গণমাধ্যম তো বটেই, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে যে, বিআরটিএ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। অর্থের বিনিময়ে এখান থেকে সহজেই গাড়ির ফিটনেস সংগ্রহ করা যায়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসারে গঠিত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে জরিপ চালানোর পর যে ফলাফল পাওয়া গেছে, বিআরটিএ’র তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা আশা করব, জরিপের ফলাফল নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি উচ্চ আদালতে জমা দেয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানোর প্রক্রিয়া জোরদার হবে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জরিপ চালানোর যে কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে, সেটিও গুরুত্বের দাবি রাখে।

সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি হলেও অন্য কারণগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত বলে মনে করি আমরা। প্রশিক্ষণহীন চালক, বেহাল রাস্তা, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা ইত্যাদি বিষয়েরও নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।

সবচেয়ে বড় যে সংকট তা হল, আইনের যথাযথ প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা। আমাদের শেষ কথা হল, সড়কে মৃত্যুর ঘটনা রোধ করতেই হবে এবং এ জন্য যা যা করা দরকার, তার সবই থাকতে হবে অগ্রাধিকার তালিকায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×