অকার্যকর উপজেলা পরিষদ

আইন সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছে

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উপজেলা,

স্থানীয় সরকারগুলোর মধ্যে উপজেলা পরিষদ নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১০ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এই পরিষদের নির্বাচন, পাঁচ ধাপে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কি শেষ কথা? ভোটের মাধ্যমে এই পরিষদে যারা নির্বাচিত হবেন, তারা স্ব স্ব পরিষদকে কতটা কার্যকর করতে পারবেন?

কারণ বহুমুখী প্রভাবের কারণে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না এই পরিষদ। বর্তমানে যেভাবে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম চলছে, তাতে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারছেন না উপজেলা চেয়ারম্যানরা। শুধু তাই নয়, এমনকি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছেও জিম্মি হয়ে পড়েছে উপজেলা পরিষদ। বস্তুত সংসদ সদস্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাই নিয়ন্ত্রণ করছেন উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম।

উপজেলা পরিষদ যে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না, এর অন্যতম কারণ আইনি দুর্বলতা। বিদ্যমান আইনে উপজেলা পরিষদের যে কাঠামো, তা ত্রুটিপূর্ণ। এই পরিষদকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করতে আইন সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছে। আইন সংশোধন করে উপজেলা চেয়ারম্যানদের সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে না পারলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটবে না।

বর্তমান অবস্থায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সামান্য ক্ষমতা থাকলেও ভাইস চেয়ারম্যানদের সুনির্দিষ্ট কোনো কাজ বা দায়িত্ব নেই, অথচ তারাও নির্বাচিত প্রতিনিধি। ওদিকে সংসদ সদস্যদের পরামর্শ ছাড়া পরিষদ কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারছে না। আবার পরিষদকে সর্বাধিক সহায়তা দেয়ার কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার; কিন্তু বাস্তবে তারাই আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকেন।

উপজেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছিল প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। স্থানীয় পর্যায়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটানোও ছিল এর লক্ষ্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এসব লক্ষ্য পূরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে, যে কারণে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের জন্য কাজ করার সীমিত সুযোগ পাচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী করতে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন। এর আগেও তারা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছিলেন। বস্তুত ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনের পর থেকেই উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করতে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা আন্দোলন করে যাচ্ছেন এবং সেই আন্দোলন এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এই আন্দোলনের একটি অন্যতম দাবি হল পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাদ দেয়া। আমরা আশা করি, উপজেলা পরিষদ পরিচালনার বর্তমান আইন সংশোধন করে অবিলম্বে পরিষদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

উপজেলা পরিষদ গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সুতরাং এ প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে পরিচালিত হলে জনগণকে সর্বোত্তম সেবা দেয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে ভাবতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, উপজেলা পরিষদ যদি নিজস্ব নিয়মে স্বনিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করতে না পারে, তাহলে এই পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানে যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলে, তার কোনো অর্থ থাকবে না।

ঘটনাপ্রবাহ : উপজেলা নির্বাচন ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×