পৌরসভায় অচলাবস্থা: নাগরিক স্বার্থে সমাধান করুন

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পৌরসভায় অচলাবস্থা: নাগরিক স্বার্থে সমাধান করুন
প্রতীকী ছবি

দেশজুড়ে অন্তত ২৬৭ পৌরসভায় অচলাবস্থা ও সংকট বিরাজ করলেও পরিস্থিতি উত্তরণের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জানা যায়, ২৬৭ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সর্বোচ্চ ৬৪ মাস পর্যন্ত বকেয়া পড়ে যাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু যে বেতন-ভাতা বকেয়া পড়েছে তা-ই নয়, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, অবসর সুবিধা ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মানীর মতো অপরিহার্য খাতের অর্থ পরিশোধও বকেয়া বহুদিন।

আয়-ব্যয়ের খাত সৃষ্টি করে পরিকল্পিতভাবে পৌরসভার অনুমোদন না দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়ার কারণেই এমন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে করে নিয়মিত করদাতারা ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগ্যতা অর্জন না করা অনেক হাটবাজারকে পৌরসভায় রূপান্তর করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিয়মানুযায়ী সরকার যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয় তখন সেটা কীভাবে চলবে, আয়ের উৎস ও ব্যয়ের খাত কী হবে, কতদিন পর্যন্ত ভর্তুকি-সহায়তা দেয়া হবে তার একটা গাইডলাইন দেয়া হয়।

কিন্তু সেটা পূরণ করতে পারবে কিনা, তা না ভেবেই গুটিকয়েক সুবিধাভোগী অনুমোদন আদায় করে নেয়। পরবর্তী সময়ে চালাতে না পারলে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর ফলে সরকার থেকে নিয়ে করদাতা পর্যন্ত সবাইকে অবর্ণনীয় ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

এমনকি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়, যা বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে সুপেয় পানি সরবরাহ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক আলোকিতকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, চিত্তবিনোদন ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো জরুরি নাগরিক সেবাগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

বেতন-ভাতা সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি যে আরও খারাপ হবে তাতে সন্দেহ নেই।

দেশে মোট পৌরসভা রয়েছে ৩২৭টি। এর মধ্যে ২৬৭টির পরিস্থিতিই নাজুক হওয়ায় পৌরসভার যে উদ্দেশ্য নাগরিকদের উন্নত সেবা দেয়া, তা পূরণ হচ্ছে না। এ অবস্থায় যেসব পৌরসভা কয়েক বছরেও সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি এবং অদূর ভবিষ্যতে পারার সম্ভাবনাও নেই, সেগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদে ফিরিয়ে নেয়ার বিশেষজ্ঞ পরামর্শ খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

পৌরসভা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর নিজস্ব আয়-ব্যয়ের উৎস আছে এবং আইনেও পৌরসভাগুলো সেখান থেকে ব্যয় নির্বাহ করবে বলা আছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলছেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা মনে করি, নাগরিক স্বার্থ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সবদিক থেকে ভালো সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা দরকার।

জনগণের কাছ থেকে হোল্ডিং ও নাগরিক সেবার বিপরীতে কর আদায়ে জোর দিয়ে এগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকেও বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে ভাবা যেতে পারে।

শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের কথা সবাই বলে থাকে; কিন্তু পৌরসভাকে শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করা না হলে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ও উন্নত নাগরিক সেবা স্বপ্নই থেকে যাবে।

এক বছর আগে সরকারের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতার দাবিতে তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছিল। আবারও তাদের রাস্তায় নামার আগে পৌরসভাগুলোর অচলাবস্থা নিরসনের পাশাপাশি নতুন পৌরসভা অনুমোদনের সময় রাজনৈতিক বিবেচনা পরিহার করে সরকার বাস্তবতাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই কাম্য।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×