সিপিডির প্রতিবেদন: কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে

  সম্পাদকীয় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিপিডির সংবাদ সম্মেলন
সিপিডির সংবাদ সম্মেলন। ফাইল ছবি

বহুদিন ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় থাকার ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়ে সবাই আশাবাদী হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, চাহিদা অনুযায়ী নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান বেকার কর্মীদের সঙ্গে প্রতি বছর নতুন করে যুক্ত হচ্ছে আরও অনেক বেকার কর্মী।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাহিদামতো নতুন কর্মসংস্থান না হওয়ায় দেশে বিদ্যমান বেকার কর্মীদের সঙ্গে প্রতি বছর নতুন করে যুক্ত হচ্ছে আরও আট লাখ কর্মক্ষম মানুষ। কাক্সিক্ষত মাত্রায় কর্মসংস্থানহীন এ প্রবৃদ্ধি এখন দেশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সিপিডির ‘কাক্সিক্ষত সামাজিক উন্নয়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি : বিষয়াদি এবং অগ্রাধিকার’ শীর্ষক প্রতিবেদন ও সংলাপে কর্মসংস্থান সংকটের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সামনে আরও যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেসব বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে।

দেশে প্রবৃদ্ধি এমন হতে হবে যাতে নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্য দূর হয়। এজন্য শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার। একইসঙ্গে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিগত ব্যয় যাতে কমে আসে সেজন্যও সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

সিপিডির প্রতিবেদনে দেশে ধনী-দরিদ্র বৈষম্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন হলে দেশে অতিদরিদ্রের সংখ্যা দ্রুত কমবে। সিপিডির প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বলা হয়েছে, দেশের হাসপাতালগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সেগুলোর মানসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু কমানোসহ স্বাস্থ খাতে উল্লেখযোগ্য অর্জন থাকলেও রয়েছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অভাব।

দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

বিদ্যমান বাস্তবতায় মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি দেশে কাক্সিক্ষত মাত্রায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।

দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি না হলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীরা সেভাবে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন না। কাজেই ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য নিতে হবে যথাযথ উদ্যোগ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×