ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি

  সম্পাদকীয় ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

পূর্বঘোষিত ১১ মার্চ ভোটের দিন বহাল রেখে ঢাকা বিশ্ববিদালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমান। তফসিল অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে।

২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হলের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২ মার্চ। তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত হল।

এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ সন্দেহ নেই। ছাত্র সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরে এ নির্বাচনের দাবি তোলা হচ্ছিল। তবে নির্বাচনের তারিখ, ভোট কেন্দ্রসহ কয়েকটি বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। একাধিক ছাত্র সংগঠন নির্বাচন পেছানো, হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র করা এবং ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি করে আসছে। তফসিলে এসব দাবি উপেক্ষিত হয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য নয়, সমগ্র দেশবাসীর জন্যই এক বড় সুখবর। এখন দরকার একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনটি সম্পন্ন হওয়া। আমরা মনে করি, ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে যেসব দাবি-দাওয়া উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোকে আমলে নিয়ে সব ছাত্র সংগঠনের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা যেমন বলেছিলাম লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার, ডাকসুর বেলায়ও কথাটা সমভাবে প্রযোজ্য। ক্যাম্পাসে সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো যাতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করাই হচ্ছে প্রথম কর্তব্য।

আমরা লক্ষ করে থাকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোকে গণতন্ত্র চর্চা করতে দেয়া হয় না। কখনও কখনও তাদের হলছাড়াও করা হয়। ডাকসু নির্বাচনের আগে সরকারি দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে হবে।

মনে রাখা দরকার, নির্বাচনে বলপূর্বক জয়লাভে কোনো মাহাত্ম্য নেই। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে দেশের একটি আলোকিত, স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের সব ছাত্রছাত্রীর আচরণে উন্নত সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।

বলা হয়ে থাকে, ডাকসু হচ্ছে এ দেশে রাজনীতিক তৈরির প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান, অন্যভাবে বললে রাজনীতিকের সাপ্লাই লাইন হচ্ছে ডাকসু। বর্তমান সময়ে যারা রাজনীতি করছেন, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসসহ নানা ধরনের অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যও ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্বশীল ডাকসুর প্রয়োজন। ডাকসুর অবর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাত্রসমাজের দাবি-দাওয়া আদায়ে কোনো স্বীকৃত সংগঠন নেই, যে কারণে ছাত্র সংগঠনগুলো যার যার মতো করে নেতৃত্ব ফলাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়, যা কখনও কখনও রূপ নেয় সহিংসতায়। ডাকসু হতে পারে সাধারণ ছাত্রসমাজের জন্য স্বীকৃত বৈধ সংস্থা, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার্গেইনিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। ডাকসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর উন্নত মানসিকতা গড়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। বলা হয়ে থাকে, রাজনীতিমনস্কতা ছাড়া আধুনিক মানুষ হওয়া যায় না। ডাকসু ছাত্রছাত্রীদের রাজনীতিমনস্ক করে গড়ে তুলতে পারে বৈকি। তাই এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার ব্যবস্থা নিতে হবে যে কোনোভাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×