জনতা ব্যাংকে সংকট

সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দিকেই নজর দেয়া দরকার

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনতা ব্যাংক

অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক জনতা ব্যাংকে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও এমডির মধ্যে দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পর্ষদ সভায় খোদ চেয়ারম্যান এমডিকে অপসারণ করার প্রস্তাব তুলেছেন।

যদিও পরিচালনা পর্ষদ এমডিকে অপসারণে রাজি হয়নি, তারপরও একটি ব্যাংকের শীর্ষ দুটি পদধারীর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। এরই মধ্যে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১১ মাসে ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বলা হচ্ছে, পরিচালনা পর্ষদের অদক্ষ চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এমনটি হয়েছে। আমরা মনে করি, শুধু চেয়ারম্যানের একক স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের কারণেই এমনটি হয়নি। ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

জানা যায়, পরিচালনা পর্ষদের সঠিক দিকনির্দেশনা না পেয়ে প্রায় সব কটি সূচকেই পিছিয়ে পড়েছে জনতা ব্যাংক। এমনকি লাভজনক অবস্থা থেকে লোকসানে চলে গেছে ব্যাংকটি। বলার অপেক্ষা রাখে না, মাথায় পচন ধরলে গোটা শরীরে তার লক্ষণ দেখা দেয়।

এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের মূলধনহীন হয়ে পড়াও এর একটি উদাহরণ। তারপরও জনতা ব্যাংকের ক্ষেত্রে আগাম সতর্ক ব্যবস্থা তো দূরের কথা, খোদ অর্থ মন্ত্রণালয় উদ্বেগ প্রকাশ করার পর এখনও কেন এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি তা বোধগম্য নয়।

আসলে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় না নিয়ে শুধু রাজনৈতিক কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোতে চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ দেয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে এমন সমস্যা। সাময়িক সময়ের জন্য আসা এসব কর্মকর্তা ব্যাংকের স্বার্থের পরিবর্তে নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

সরকারের শীর্ষ মহলের উচিত দেশের স্বার্থে, জনগণের কষ্টে উপার্জিত আমানত রক্ষার স্বার্থে সরকারি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পদগুলোতে দক্ষ ও যোগ্য পেশাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া।

বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞরা এমন অভিমত দেয়ার পরও এ ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়াটা দুঃখজনক। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের শীর্ষ মহলের উচিত ব্যাংকগুলোকে বাঁচাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

ব্যাংকে অনিয়ম-দুর্নীতি, ঋণখেলাপি, ঋণ জালিয়াতির মতো বিষয়গুলো আমাদের দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সাল তো ব্যাংক জালিয়াতির বছর হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে। পরিস্থিতি কত ভয়াবহ হলে এমনটি হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

জনতা ব্যাংকের সর্বশেষ পরিস্থিতি হল, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ১০ শতাংশ সম্পদ রাখার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৫ শতাংশ। এ ছাড়া ভুয়া নথিতে ঋণ দেয়া, পারস্পরিক যোগসাজশে ঋণের নামে অর্থ লুটপাটের মতো অনিয়মও আছে। অন্যান্য সরকারি ব্যাংকের পরিস্থিতিও প্রায় একইরকম।

এসব ব্যাংকে অনিয়ম-দুর্নীতি শিকড় গেড়ে বসেছে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে ব্যাংকে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফেরাতে হবে। অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির নজির তৈরি করতে হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করার জন্য একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা যেতে পারে। আশার কথা, অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন। দেশের অর্থনীতি তথা সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×