চিরকুট পার্টি

দ্রুত নির্মূলে পদক্ষেপ নিন

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চিরকুট পার্টি

মানুষ নানা প্রয়োজনে পথে নামে- অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, পড়ালেখা, চিকিৎসা, ভ্রমণ ইত্যাদি। উপলক্ষের যেন শেষ নেই। চলার পথে অজস্র মানুষের ভিড়ে কে সাধু, কে চোর তা সাদা চোখে বোঝার উপায় নেই। আর এ সুযোগটিই গ্রহণ করছে রাজধানীতে নতুন আবির্ভূত একটি অপরাধ চক্র। এ চক্রের নাম ‘চিরকুট পার্টি’।

জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা রাস্তার পাশে মাইক্রোবাস নিয়ে ওতপেতে থাকে। এদের একজন ছদ্মবেশে টার্গেটকৃত ব্যক্তির দিকে একটি ‘চিরকুট’ এগিয়ে দিয়ে তা পড়ে শোনানোর অনুরোধ জানায়।

ওই ব্যক্তি যখন ‘চিরকুটটি’ তাকে পড়ে শোনানোয় মনোযোগ দেন, ঠিক তখনই চক্রের অন্য সদস্যরা পেছন থেকে তাকে জাপটে ধরে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এরপর চেতনানাশক দিয়ে অচেতন করে সঙ্গে থাকা অর্থকড়ি লুটে নিয়ে ওই ব্যক্তিকে নির্জন স্থানে ফেলে দেয়া হয়। কখনও কখনও গোপন আস্তানায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টাও করা হয়।

এ চক্রের ফাঁদে পড়ে ইতিমধ্যে অনেকে সর্বস্ব খুইয়েছেন, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিতেও পড়েছেন কেউ কেউ। উদ্বেগের বিষয় হল, বর্তমানে রাজধানীজুড়ে ‘চিরকুট পার্টি’র তৎপরতা বেড়ে গেছে।

আমরা মনে করি, নতুনরূপে আবির্ভূত এই তস্করদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। বলার অপেক্ষা রাখে না, সমাজে মানুষের বসবাস যাতে নিরাপদ হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে দেশের পুলিশবাহিনী। এ দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা অবহেলা করা হলে সামাজিক নিরাপত্তা ও শান্তি বিনষ্ট হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

জানা গেছে, কথিত অজ্ঞান পার্টির অন্তত ৮২টি গ্রুপ বা চক্র রাজধানীতে সক্রিয় রয়েছে। এরা সাধারণত চা বিক্রেতা, আচার বিক্রেতা ও যানবাহনের হেলপারসহ বিভিন্ন রূপ ধরে অপকর্ম করে বেড়ায়। সাধারণ পথচারী তো বটেই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পর্যন্ত এদের হাতে নাকানি-চুবানি খেয়েছে, এমন নজিরও রয়েছে।

খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও তস্কর দল সাধারণত রুমাল বা অন্য কিছুতে ক্লোরোফর্মজাতীয় ওষুধ মিশিয়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তির নাকের কাছে ধরে কার্যসিদ্ধি করে থাকে। এই অপরাধ চক্রের কারণে মানুষকে অর্থকড়ি ও মূল্যবান সামগ্রী হারানোর পাশাপাশি চেতনানাশক ওষুধের প্রভাবে স্নায়বিক ও মানসিক ধকলেরও সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে যারা তস্করবৃত্তি করে বেড়াচ্ছে তাদের দ্রুত নির্মূল করা উচিত।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×