আদালতের সময়োচিত আদেশ

খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার রোধে সহায়ক হবে

  সম্পাদকীয় ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

এক কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপিদের নাম-ঠিকানা প্রস্তুত করে তা আদালতে দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে অর্থ পাচার সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং পাচার বন্ধে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা-ও জানাতে বলেছেন আদালত। শুধু তা-ই নয়, গত ২০ বছরে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম এবং সুদ মওকুফ সংক্রান্ত অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। বুধবার এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। আদালতের এসব নির্দেশ অত্যন্ত সময়োচিত।

দেশে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে নানা সমস্যা। এ খাতের একটি বড় সমস্যা হল উচ্চ খেলাপি ঋণ। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা যায়, খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে। খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকিং খাতে নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেই ঝুঁকি তৈরি করছে। ব্যাংকিং খাতে এ অবস্থার পেছনে কাজ করছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতি। আদালতের বক্তব্যেও এর ইঙ্গিত রয়েছে। আদালত বলেছেন, ‘বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়া হচ্ছে, কিন্তু কোনো সিকিউরিটি মানি নেই। যারা লোন নিচ্ছে, তাদের ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে।’ আমরা মনে করি, ঋণখেলাপিদের তালিকা পাওয়া গেলেই বোঝা যাবে কারা ঋণ নিয়েছেন, কারা ঋণের টাকা পরিশোধ করেননি। তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার পথ সুগম হবে।

দেশ থেকে অর্থ পাচারের ঘটনাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) জানিয়েছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৯০ কোটি ডলার (প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা) পাচার হয়েছে। গত ১০ বছরে পাচারের পরিমাণ ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে পাচার হয়েছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ পাচার সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সময়ের তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। ধারণা করা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বেশি হবে। অর্থ পাচার হচ্ছে নানা পন্থায়। ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের তথ্যও রয়েছে। পাচারের ছিদ্রগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তা বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া গেলে রোধ হতে পারে অর্থ পাচার। এক্ষেত্রে অর্থ পাচারকারীদের শনাক্ত করাও জরুরি। অর্থ পাচার সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সে পথও উন্মুক্ত হতে পারে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা নিরসনে খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরা এবং অর্থ পাচার রোধ করা জরুরি। মাত্রাতিরিক্ত ঋণ খেলাপির প্রভাব পড়ছে ঋণ ব্যবস্থাপনায়। ফলে এগোতে পারছেন না ভালো উদ্যোক্তারা। পরিণামে বাড়ছে না বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। কাজেই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আশার কথা, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এবার আদালতও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলেন। আমরা আশা করব, হাইকোর্ট যেসব তথ্য চেয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তা দ্রুত আদালতে দাখিল করবেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতির দুই দুষ্টু ক্ষত খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার বন্ধ হবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×