ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান

সবসময়ের জন্য ধরে রাখতে হবে

  সম্পাদকীয় ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ মার্চ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক।

সবচেয়ে আশার কথা, মাঠের বড় বিরোধী দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই নির্বাচনকে দেখছে ইতিবাচকভাবে।

স্মরণ করা যেতে পারে, ছাত্রদল দীর্ঘ ৯ বছর বলতে গেলে ছিল ক্যাম্পাসছাড়া। গত বুধবার সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই দীর্ঘ সময় পর প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এসে প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন। মধুর ক্যান্টিনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এটা ছিল এক মধুর দৃশ্য।

ক্যান্টিনের এক পাশে অবস্থান নিয়েছিল ছাত্রলীগ, অন্য পাশে ছাত্রদল। শুধু তা-ই নয়, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদককে ফুল দিয়ে বরণ করেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ছাড়াও অবস্থান নিয়েছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও অন্যান্য প্রগতিশীল বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঘাটতি। বিশেষত ছাত্রদল যদি ক্যাম্পাসে বাধাবিপত্তিহীনভাবে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে না পারে, তাহলে গ্রহণযোগ্য ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। সেদিক থেকে বুধবারের সহাবস্থান নিঃসন্দেহে একটি শুভ ঘটনা।

শান্তিপূর্ণ এই সহাবস্থান নির্বাচন ও তৎপরবর্তী সময়ে ধরে রাখতে পারলে কল্যাণকর ছাত্র রাজনীতির জন্য তা বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, সন্দেহ নেই। এটা ঠিক, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের পুনঃতফসিলসহ ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

এসব দাবি শেষ পর্যন্ত মানা হবে কি না, এ প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন হল- সাংঘর্ষিক ছাত্র রাজনীতির অবসান হবে কি না। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন সেই দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয়।

বিরোধী দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রবেশই করতে পারে না। ছাত্র রাজনীতির এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। ডাকসু দেশের একটি অন্যতম গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান।

অনেকে এটাকে ‘সেকেন্ড পার্লামেন্ট’ও বলে থাকেন। ডাকসুকেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতি থেকেই এ দেশের অনেক প্রথিতযশা রাজনীতিকের জন্ম হয়েছে। অথচ দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ডাকসু নির্বাচন হতে পারেনি। তবে কখনও না হওয়ার চেয়ে দেরিতে হওয়াও ভালো।

আমরা চাইব, এ নির্বাচনটি কোনো ধরনের বিতর্ক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব এবং সাধারণ ছাত্রসমাজ তাদের নিজ নিজ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলে সেটা দেশের জাতীয় রাজনীতির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশবাসী রাজনীতির সেই চেহারাটাই দেখতে চায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×