চিকিৎসাসেবায় পরিবর্তন আসুক

  নাজমুল হোসেন ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দৃষ্টিপাত

ডাক্তার, নার্স ও দালালদের দৌরাত্ম্যে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সরকারি হাসপাতালের রোগীরা। দেশের ৬৪টি জেলা শহরের বেশির ভাগ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকগুলোর অবস্থা আরও নাজুক।

হাসপাতালগুলোয় শুধু ডাক্তার সংকট নয়, সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ অন্যান্য বিভাগের লোকবলও অপ্রতুল। বেশির ভাগ হাসপাতালে এক্সরে মেশিন, ডেন্টাল যন্ত্রপাতি, প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতিসহ মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী ব্যবহারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ছে।

ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ওইসব চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিভাগীয় শহরের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয়ও রয়েছে নানা সমস্যা। একটু ভালো আর বিনামূল্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পেতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দরিদ্র রোগী হাসপাতালে আসেন।

কিন্তু হাসপাতালে এসেই তাদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। হাসপাতালের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে কেবিন, বেড পর্যন্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে একশ্রেণীর দালালচক্র।

নানা প্রলোভন যেমন- দ্রুত বেড পাইয়ে দেয়া, প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি দেখিয়ে তারা দরিদ্র ও সহজসরল রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে একরকম সর্বস্বান্ত করে ছাড়ে।

অর্থাৎ বিষয়টা অনেকটা এমন- আগে টাকা, পরে চিকিৎসা। এদের খপ্পরে পড়ে অনেকেই চিকিৎসাসেবা পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো দ্বিগুণ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এ দালালরাই আবার সরকারি মেডিকেলের কাজের হতাশাপূর্ণ বর্ণনা দিয়ে প্রাইভেট ডাক্তারদের কাছে চিকিৎসা নিতে রোগীকে উদ্বুদ্ধ করে। অভিযোগ আছে, এরা সরকারি ডাক্তারদের দ্বারা নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রিত আর রোগীপ্রতি এসব দালালকে ডাক্তাররা কমিশন দিয়ে থাকেন।

রোগী দেখার সময় দেখা যায় ডাক্তারদের নানা রকম মিটিং থাকে। দুপুরের খাবারের আগেই ডাক্তারসহ নার্সরা বিরতিতে চলে যান। নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরেও তাদের দেখা মেলে না। ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ- ডাক্তাররা তাদের সরকারি কর্মক্ষেত্রের চেয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানকেই প্রাধান্য দেন।

আরও একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র হচ্ছে- ডাক্তার কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতি। দামি গিফট কিংবা বড় ধরনের সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেক সময় ওইসব প্রতিনিধির সঙ্গে ডাক্তারকে আলাপচারিতায় মেতে উঠতে দেখা যায়। তাদের এ কার্যক্রমের মধ্যেও লাইনে অপেক্ষমাণ রোগীর নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। ডাক্তারদের অবহেলা ও অনুপস্থিতির সুযোগে নার্স, ওয়ার্ডবয় ও আয়ারাই হয়ে ওঠেন সর্বেসর্বা। তাদের অনেকে রোগী দেখা থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করেন অবলীলায়! সুযোগ-সুবিধাহীন সরকারি হাসপাতালে একশ্রেণীর ডাক্তার, নার্স, আয়া-কর্মচারীর দুর্ব্যবহারের সামনে রোগীরা হয়ে পড়েন অসহায়। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ থাকা সত্ত্বেও রোগীরা ঠিকমতো ওষুধ পান না। ডাক্তারদের লেখা স্লিপ নিয়ে ওষুধ আনতে গেলেই দু-একটা সস্তা ওষুধ দিয়ে বলা হয়, বাকিগুলো স্টোরে নেই, বাইরে থেকে কিনতে হবে।

কিছু চিকিৎসকের বাণিজ্যিক মন-মানসিকতার কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তির আশায় নিকটস্থ বেসরকারি ক্লিনিকগুলোয় সেবা নিতে গিয়েও সাধারণ রোগীরা পড়েন নানা যন্ত্রণায়। উন্নত চিকিৎসার নামে চাকচিক্যময় ওইসব ক্লিনিকে ভালো চিকিৎসার নামে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য। সাধারণ রোগীরা চিকিৎসকদের নামিদামি ডিগ্রি দেখে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন। তাই আমরা আশায় আছি, সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

নাজমুল হোসেন : প্রকৌশলী ও লেখক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×